আর ভিড় নয়! এজলাসে মক্কেলদের প্রবেশ বন্ধের নির্দেশ, এসএসসি মামলার রায় নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ওপর

শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) কর্তৃক অতিরিক্ত ১০ নম্বর বরাদ্দ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত কোনও নির্দেশ দিল না। বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন, যেহেতু এই মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং আগামী ২৬ নভেম্বর তার পরবর্তী শুনানি রয়েছে, তাই শীর্ষ আদালতের নির্দেশ দেখার পরই হাইকোর্টে মামলার শুনানি হবে।

হাততালি ও ভিড়ে ক্ষুব্ধ বিচারপতি

এদিকে, বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এসএসসি সম্পর্কিত এই মামলাটির শুনানি চলাকালীন দু’পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র আইনি লড়াই চলছিল। সেই সময় এজলাসে উপস্থিত একদল পরীক্ষার্থী হাততালি দিয়ে একপক্ষের আইনজীবীর যুক্তির সমর্থন করেন। এমন আচরণে বিচারপতি অমৃতা সিনহা অত্যন্ত বিরক্ত হন এবং তাদের এজলাস থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এরপর বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বিচারপতিকে একটি WhatsApp মেসেজ দেখান। ওই মেসেজে মক্কেলদের উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল যে, এদিনের মামলায় সকাল থেকে এজলাসে ভিড় জমাতে হবে, যার ইঙ্গিত ছিল আদালতের উপর চাপ তৈরির।

এই ঘটনায় বিচারপতি মন্তব্য করেন, “এই ভাবে কি আর চাপ দেওয়া যায়!” এরপরেই তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত নেন: আগামী দিনে এমন মামলায় মক্কেলদের এজলাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিচারপতি পরামর্শ দেন, যেহেতু তাঁর এজলাসের শুনানির নিরবচ্ছিন্ন লাইভ স্ট্রিমিং হয়, তাই পরীক্ষার্থীরা সেই লাইভ দেখেই নিজেদের কৌতূহল মেটাতে পারেন।

সুপ্রিম রায়ের অপেক্ষায় হাইকোর্ট

প্রসঙ্গত, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ানোর অভিজ্ঞতার জন্য এসএসসি অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অভিজ্ঞতাহীন একাধিক প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের বক্তব্য, তাঁরা পরীক্ষা দেওয়ার আগেই ১০ নম্বর পিছিয়ে থাকছেন। এর আগে গত ৭ নভেম্বরের শুনানিতে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আদালত পরীক্ষার ফল প্রকাশের উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করছে না, তবে হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলার রায়ের ওপরই ফলাফলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। বুধবার আদালত চূড়ান্তভাবে জানায়, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে একই ইস্যুতে মামলা চলছে, তাই আপাতত হাইকোর্ট এই মামলার শুনানি করবে না।