সোমবার সুপ্রিম কোর্ট গুরুগ্রামে চলমান উচ্ছেদ অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি পিটিশন শুনতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে আবেদনকারীদের স্বস্তি দিয়ে শীর্ষ আদালত তাঁদের বিষয়টি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসাথে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে আজ দুপুর ১টায় অথবা মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক পরেই বিষয়টি শোনার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছে।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট গোপাল শঙ্করনারায়ণন বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চের সামনে বিষয়টি মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, গুরুগ্রামের সেক্টর ৩১-এর বিভিন্ন এলাকায় কোনওরকম পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ভাঙার কাজ শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। তাঁর দাবি, আদালতের একটি আগের নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করে এই বেআইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি লড়াই:
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত প্রশ্ন তোলেন, “এগুলো তো অনুমোদনহীন নির্মাণ। হাইকোর্ট যেখানে বিষয়টি দেখছে, সেখানে শীর্ষ আদালত হিসেবে আমরা কেন হস্তক্ষেপ করব?” জবাবে অ্যাডভোকেট শঙ্করনারায়ণন দাবি করেন যে, এই নির্মাণগুলো সম্পূর্ণ বৈধ এবং কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের অপব্যবহার করছে।
আবেদনটি মূলত গুরুগ্রামের সেক্টর ৩১ (লেন ৬৩৫ থেকে ৯৩৭)-এর বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দায়ের করা হয়েছিল। তাঁরা পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের সেই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, যেখানে ‘স্টিল্ট + ৪’ (এস+৪) নির্মাণ নীতির ওপর রাজ্যব্যাপী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজ্য কর্মকর্তারা এই স্থগিতাদেশকে একটি ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে।
সংকটে ১৫০০ পরিবার:
আবেদনকারীদের মতে, গত ১৬ এপ্রিল জারি করা একটি নির্দেশিকার মাধ্যমে প্রশাসন দাবি করেছে যে, হাইকোর্ট সীমানা প্রাচীর, র্যাম্প এবং সবুজ এলাকা ভেঙে ফেলার অনুমোদন দিয়েছে। রেসিডেন্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (RWA)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাসকারী প্রায় ১,৫০০ পরিবার এখন ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ বা আইনি শুনানির কোনও সুযোগ না দিয়েই বুলডোজার চালানো হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এখন হাইকোর্টের বিশেষ শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ।





