সুন্দরবন ভ্রমণে বড় নিষেধাজ্ঞা! ১৬ থেকে ২৩ জুন পর্যটকদের জন্য বন্ধ সব দরজা

সুন্দরবন ভ্রমণে পরিকল্পনা থাকলে তা এখনই বাতিল করুন। আগামী ১৬ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পে (STR) সমস্ত ধরণের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য বন দফতর। এই সময়কালে পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বন দফতরের তরফে ট্যুর অপারেটর, হোটেল মালিক এবং বোট মালিকদের এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।
কেন হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞা? বন দফতরের আধিকারিকদের সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রশাসনিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আসন্ন ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই দিনটিকে ঘিরে গঙ্গা বা হুগলি নদীতে এক বিশাল ‘মেগা ইভেন্ট’-এর আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হলো হুগলি নদীর বুকে ভাসমান নৌকায় সম্মিলিত যোগাভ্যাস। এছাড়া বাবুঘাটেও বিশেষ যোগ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য সুন্দরবন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক বড় নৌকা এবং পর্যটক বহনকারী লঞ্চ কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রশাসনিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং প্রয়োজনীয় জলযানের অপ্রতুলতার কারণে সুন্দরবনে এই আট দিন পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন দফতরের স্পষ্ট নির্দেশ, এই সময়কালে সুন্দরবনের কোনো ইকো-ট্যুরিজম স্পটে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার থাকবে না।
এই ৮ দিনের জন্য সুন্দরবন পর্যটনের অফিসিয়াল অনলাইন বুকিং পোর্টালটিও নিষ্ক্রিয় রাখা হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত পর্যটকের ইতিমধ্যে বুকিং ছিল, তা হয় বাতিল করতে হবে অথবা পরবর্তী তারিখের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। ট্যুর অপারেটরদের জানানো হয়েছে, কোনোভাবেই যেন নির্দেশ অমান্য করে পর্যটকদের নিয়ে সুন্দরবন অভিমুখে যাত্রা না করা হয়। আগামী ২৪ জুন ২০২৬ থেকে সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে। যারা এই সময় সুন্দরবন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত বুকিং পরিবর্তন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।