প্রকৃতির অদ্ভুত খেয়াল! হিমালয়ের বুকে মিলল চোখ জুড়ানো রহস্যময় হাসিমুখওয়ালা মাকড়সা, জেনেনিন এর বিশেষত্ব

উত্তরাখণ্ডের পশ্চিম হিমালয়ের দুর্গম জঙ্গলে আবিষ্কৃত হয়েছে এক সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির মাকড়সা, যার গায়ে রয়েছে অদ্ভুত হাসিমুখের মতো রঙিন নকশা। চামোলি জেলার প্রায় ২০০০ থেকে ২২০০ মিটার উচ্চতার পাহাড়ি অরণ্যে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় এই অনন্য সন্ধান মিলেছে। দেরাদুনের বন গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং আঞ্চলিক প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের গবেষকদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার ‘ইভোলিউশনারি সিস্টেম্যাটিক্স’ (Evolutionary Systematics) নামক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় মাকড়সা মিলিয়ে মোট ৬১টি নমুনা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে ৩২টি ভিন্ন রঙের নকশা বা বৈচিত্র্য নথিভুক্ত করেছেন।
এই ক্ষুদ্র মাকড়সাটির সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো এর পেটের ওপর লাল, কালো এবং সাদা রঙের নিখুঁত বিন্যাস, যা দূর থেকে দেখলে একটি হাসিমুখ বলে মনে হয়। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বিখ্যাত ‘হ্যাপি ফেস স্পাইডার’ বা থেরিডিয়ন গ্র্যালেটর প্রজাতির সঙ্গে এর বাহ্যিক মিল থাকলেও ডিএনএ বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীদের চোখ কপালে উঠেছে। ডিএনএ পরীক্ষণে দেখা গেছে যে এই দুই প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৮.৫ শতাংশ জিনগত পার্থক্য রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি অভিসারী বা সমান্তরাল বিবর্তনের এক অবিশ্বাস্য উদাহরণ, যেখানে ভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থান করেও পরিবেশগত কারণে দুটি আলাদা প্রজাতি একই রকম বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা নকশা অর্জন করেছে।
আচরণের দিক থেকেও এই মাকড়সাটি বেশ আলাদা। এরা সাধারণত গাছের পাতার নিচের পৃষ্ঠে জাল বুনে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে এবং বনের ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও অণুজীব শিকার করে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, হিমালয়ের অনাবিষ্কৃত ও দুর্গম অরণ্যগুলিতে এই ধরনের আরও বহু অজানা প্রজাতির সন্ধান পাওয়া সম্ভব। এই আবিষ্কার উত্তরাখণ্ডের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কথা পুনরায় প্রমাণ করার পাশাপাশি বিবর্তনের জটিল ও রহস্যময় ইতিহাস উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন পথের দিশা দেখাচ্ছে।