সুন্দরবনের খাঁড়িতে রাজনৈতিক তুফান! কুলতলিতে অশ্বিনী-মানিকের মেগা হুংকার, টার্গেট কি ডাবল ইঞ্জিন?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন লাগোয়া কুলতলি— যাকে রাজনীতির ভাষায় বলা হয় ‘কঠিন পিচ’, সেখানেই এবার জয়ের হুংকার দিল গেরুয়া শিবির। সোমবার কুলতলির জনসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা অশ্বিনী এবং মানিক সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শাসকদলের দিকে। বাঘের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁদের দাবি, “সুন্দরবনের মানুষের ভাগ্য বদলাতে পারে একমাত্র ডাবল ইঞ্জিন সরকার।”

উন্নয়নের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ দাওয়াই

এদিনের জনসভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তৃতার শুরুতেই অশ্বিনী বাবু সুন্দরবনের নদী বাঁধের সমস্যা এবং কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, “রাজ্যে এক সরকার আর কেন্দ্রে আরেক সরকার থাকলে উন্নয়ন থমকে যায়। কেন্দ্রের টাকা রাজ্যে এসে পৌঁছালেও তা সাধারণ মানুষের কাছে যায় না। তাই কুলতলির মাটিতেও এবার ডাবল ইঞ্জিনের উন্নয়ন দরকার।”

অশ্বিনী-মানিকের মূল আক্রমণ:

  • নদী বাঁধ সংস্কার: আয়লা বা আমফানের মতো দুর্যোগে প্রতিবার বাঁধ ভেঙে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন মানিক।

  • পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা: সুন্দরবনের যুবকদের কেন কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যেতে হচ্ছে, তা নিয়ে শাসকদলকে তুলোধোনা করেন তাঁরা।

  • নিরাপত্তা ও ভয়মুক্ত ভোট: ভোটারদের নির্ভয়ে বুথে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুই নেতাই বলেন, “এবার বাঘের মাটিতে জনগণের গর্জন শোনা যাবে।”

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পারদ

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই অঞ্চলে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় অশ্বিনী-মানিকের এই হাইভোল্টেজ সভা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সভা শেষে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিপুল উন্মাদনা দেখা যায়, যা আগামী দিনের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলল।

বিজেপি-র দাবি: “মানুষ তিতিবিরক্ত, এবার বদল হবেই। কুলতলিতে পদ্ম ফুটলে উন্নয়নের জোয়ার আসবে।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy