বাংলায় যোগী রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’! দ্বিতীয় দফার মহারণে বড় চমক কমিশনের!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শান্তিতে কাটলেও দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। আর ঠিক এই কারণেই বাংলায় পা রাখলেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একঝাঁক দুঁদে অফিসার, যাদের পরিচিতি ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের এই দুর্ধর্ষ আধিকারিকদের এবার বাংলার স্পর্শকাতর বুথগুলোতে পর্যবেক্ষক এবং নিরাপত্তা ইন-চার্জ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) নবান্ন ও কমিশন সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের বেশ কয়েকজন আইপিএস (IPS) আধিকারিককে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলির মতো উত্তপ্ত জেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কেন এই ‘স্পেশাল’ নিয়োগ?

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এমন কিছু এলাকা রয়েছে (যেমন ভাঙড়, ক্যানিং বা ভাটপাড়া), যেখানে বিগত নির্বাচনে চরম হিংসার ছবি দেখা গিয়েছিল। কমিশন মনে করছে:

  • মনস্তাত্ত্বিক চাপ: ইউপি পুলিশের ‘কড়া’ ভাবমূর্তি দুষ্কৃতীদের মনে ভয় ধরাতে সাহায্য করবে।

  • অভিজ্ঞতা: যোগী রাজ্যে অপরাধ দমনে যারা পারদর্শী, তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘বুথ দখল’ বা ‘ছাপ্পা ভোট’ রোখা সহজ হবে।

  • নিরপেক্ষতা: ভিন রাজ্যের অফিসার হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে তাঁরা কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

বুথে বুথে ‘বুলডোজার’ স্টাইল?

যদিও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘এনকাউন্টার’ বা ‘বুলডোজার’ নীতির কোনো জায়গা নেই, তবুও এই আধিকারিকদের রণকৌশল অত্যন্ত কড়া হতে চলেছে। সূত্রের খবর: ১. তৎক্ষণাৎ অ্যাকশন: বুথ সংলগ্ন ১০০ মিটারের মধ্যে জটলা দেখলেই কড়া হাতে দমন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২. অস্ত্র উদ্ধার: সীমান্ত এলাকাগুলোতে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই অফিসারেরা। ৩. নাকা তল্লাশি: প্রতিটি পুলিশ ডিস্ট্রিক্টে নাকা চেকিংয়ের তদারকিতে থাকছেন তাঁরা।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

উত্তরপ্রদেশের অফিসারদের এই মোতায়েন নিয়ে যথারীতি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

  • বিজেপির দাবি: “দুষ্কৃতীদের যম আসছে, এবার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দেবে। যারা গুন্ডামি করে জেতার স্বপ্ন দেখছে, তাদের দিন শেষ।”

  • তৃণমূলের পাল্টা: “বাংলাকে উত্তরপ্রদেশ বানানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলার পুলিশ যথেষ্ট দক্ষ, বাইরের অফিসার এনে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা সফল হবে না।”

কমিশনের কড়া বার্তা: “অফিসার কোন রাজ্যের সেটা বড় কথা নয়, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই শেষ কথা।”

২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে এই ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আধিকারিকদের উপস্থিতি কতটা কার্যকরী হয় এবং বাংলার ইভিএম শান্তিতে সুরক্ষিত থাকে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy