‘প্রিয়দর্শিনী’ প্রকল্পের বড় চমক, সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ পেলেন রাজ্যের মহিলারা!

কেরালা রাজ্যের মহিলাদের জন্য একটি যুগান্তকারী ও অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সরকারি বাসে যাতায়াতকারী মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১৫ জুন থেকে রাজ্যের সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। রাজ্য সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় কল্যাণমূলক প্রকল্প ‘ইন্দিরা গ্যারান্টি’-র অধীনেই এই ‘প্রিয়দর্শিনী’ প্রকল্পটি চালু করা হচ্ছে। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে এবং পরে মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশান এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন।
এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এতে বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা বা আয়ের কোনো শর্ত রাখা হয়নি। অর্থাৎ, সমাজের সর্বস্তরের মহিলারা, ছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মজীবী নারী বা বয়স্ক মহিলা—সবাই এই পরিষেবার সুবিধা নিতে পারবেন। তবে প্রাথমিকভাবে এই সুবিধা শুধুমাত্র কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (কেএসআরটিসি)-এর সাধারণ বাস পরিষেবাগুলির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। ওই বাসগুলিতে ভ্রমণকারী মহিলাদের কোনো টিকিট কাটার প্রয়োজন হবে না বা ভাড়া দিতে হবে না।
এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন রাজ্য সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপের সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই পরিষেবাটি কার্যকর করার ফলে কেএসআরটিসি-র ওপর প্রতি মাসে ৬০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক বোঝা পড়বে। বার্ষিক ভিত্তিতে এই ব্যয়ের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে আপাতত শুধুমাত্র সাধারণ বাস পরিষেবাতেই এই সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি কেএসআরটিসি-র আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং রাজস্ব বৃদ্ধি পায়, তবে এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়িয়ে অন্যান্য ধরনের বাস পরিষেবাতেও এটি চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
কেরালা সরকার বিশ্বাস করে যে, এই উদ্যোগটি মহিলাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মহিলারা এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। গ্রামীণ ও নিম্ন-আয়ের পরিবারের মহিলারা, যারা প্রতিদিন যাতায়াতের ভাড়ার জন্য হিমশিম খান, তাঁরা এই প্রকল্পের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে তাঁদের কাছে আরও সহজলভ্য ও নিরাপদ করে তোলা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরণের জনমুখী প্রকল্প মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এক বড় পদক্ষেপ। ১৫ জুনের পর থেকে যখন এই পরিষেবা কার্যকর হবে, তখন তা রাজ্যের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।