দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়! আরজি কর আন্দোলনের মুখ অনিকেত মাহাতো পেলেন ‘বন্ড রিলিজ’, স্বস্তি চিকিৎসক মহলে

আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের পর মুক্তি পেলেন। বুধবার স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ থেকে তাঁর ‘বন্ড রিলিজ’ চূড়ান্ত করা হয়। রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর এবং সরকার বদলের পরবর্তী সময়েই এই রিলিজ অর্ডারের বাস্তবায়ন চিকিৎসকদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে যখন গোটা দেশ উত্তাল হয়েছিল, তখন আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন অনিকেত মাহাতো। অভিযোগ ছিল, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতেই তৎকালীন সরকার অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার এবং আসফাকুল্লা নাইয়াদের মতো চিকিৎসকদের পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূত পদক্ষেপ নিয়েছিল। কাউন্সেলিংয়ের সময় আরজি কর মেডিকেল কলেজে পোস্টিংয়ের সুযোগ থাকলেও, চূড়ান্ত তালিকায় অনিকেতকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে।同様ভাবে, দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়ার ক্ষেত্রেও কাউন্সেলিং ও পোস্টিং অর্ডারের মধ্যে বড়সড় গরমিল পাওয়া গিয়েছিল।

এই প্রতিহিংসামূলক বদলির বিরুদ্ধে অনিকেত মাহাতো আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি মামলাটি জিতেও যান। আইনি জয় পাওয়ার পরেও আগের সরকার তাঁর ‘বন্ড রিলিজ’ আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ। অনিকেতের দাবি ছিল, বন্ডের নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও তাঁকে দীর্ঘ ৫ মাস বসিয়ে রাখা হয়। এই সময়কালটি তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। অবশেষে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর, নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তাঁর সেই রিলিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন অনিকেত মাহাতোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল, অন্যদিকে তেমনই চিকিৎসা মহলে স্বস্তির হাওয়া ফিরল। যদিও বিষয়টি দীর্ঘ ৫ মাস ধরে ঝুলে ছিল, তবুও এই সাফল্যকে আন্দোলনের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই পদক্ষেপের পর অনিকেত মাহাতোর পরবর্তী কর্মপদ্ধতি কী হবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন আপামর সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসা জগতের কর্মীরা।