ভারতীয় রেলের কর্মীবাহিনীর জন্য এল এক বিরাট সুখবর। আধুনিকীকরণের পথে হেঁটে ভারতীয় রেল এবার ১৫০টিরও বেশি ট্রেনকে ‘হাই-স্পিড’ বা উচ্চগতিসম্পন্ন ট্রেনের অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের সরাসরি সুফল পাবেন লোকো পাইলট, গার্ড এবং অন্যান্য রানিং স্টাফরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হাই-স্পিড ট্রেনের কর্মীদের ট্রিপ অ্যালাউন্স এবং মাইলেজ রেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে কর্মীদের মাসিক বেতন প্রায় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেল মন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হাই-স্পিড বিভাগের জন্য মোট ১৫৫টি ট্রেনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকায় স্থান পেয়েছে দেশের আধুনিক প্রিমিয়াম ট্রেন ‘বন্দে ভারত’-এর একটি বিশাল অংশ। এছাড়াও জনপ্রিয় রাজধানী এক্সপ্রেস, দুরন্ত, তেজস, হামসফর এবং একাধিক সুপারফাস্ট ট্রেনকে এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে যুক্ত করা হয়েছে। বারাণসী-নয়া দিল্লি বন্দে ভারত, হাওড়া-নয়া দিল্লি রাজধানী, চেন্নাই-বেঙ্গালুরু, আজমের-দিল্লি এবং অমৃতসর-দিল্লির মতো দেশের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলি এখন এই নতুন তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
রেলওয়ে বোর্ডের কর্তাদের মতে, সাধারণ ট্রেনের তুলনায় উচ্চগতিসম্পন্ন ট্রেন চালানো অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন পরিচালনার সময় লোকো পাইলট এবং রানিং স্টাফদের ওপর যে বাড়তি মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়, তা বিবেচনা করেই বেতন এবং মাইলেজ রেট সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, লোকো পাইলটদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ কিলোমিটারে মাইলেজ রেট ৪৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০৬ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে, গার্ডদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৩৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৪৯ টাকা করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এখন থেকে অনেক বেশি আর্থিক সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কর্মচারীদের গ্রেড পে এবং ট্রেনের ক্লাসের ওপর ভিত্তি করে ট্রিপ অ্যালাউন্স ও অন্যান্য ভাতার হার নির্ধারিত হবে। এটি হাই-স্পিড ট্রেনে কর্মরত কর্মীদের জন্য এক বিশেষ প্রণোদনা। শুধু বর্তমান তালিকা নয়, রেলওয়ে বোর্ড জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যদি কোনো নতুন ট্রেন এই তালিকায় যুক্ত হয় অথবা বিদ্যমান কোনো ট্রেনের গতি বা ক্লাসের পরিবর্তন হয়, তবে কোচিং ডিরেক্টরেট অবিলম্বে সেই তালিকা আপডেট করে দেবে। রেলের এই আধুনিক পদক্ষেপ একদিকে যেমন কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে দেশের প্রিমিয়াম ও আধুনিক ট্রেন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলবে। সামগ্রিকভাবে রেলের এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করার পাশাপাশি ভারতীয় রেলের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।





