রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শনিবার সকালে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। হাসপাতালের চারতলার জানালা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হলো এক অজ্ঞাতপরিচয় রোগীর। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতের বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। তাঁর বাঁ চোখে ব্যান্ডেজ থাকায় চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, তিনি চোখের চিকিৎসার জন্যই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার বদলে মৃত্যু তাঁকে টেনে নিয়ে গেল অজানার দেশে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই ব্যক্তি গত দুই দিন ধরে হাসপাতালের শল্য বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিলেন বলেও জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শনিবার সকালে ওই রোগীকে হাসপাতালের চারতলার একটি জানালার ধারে দেখা যায়। ওই জানালার পাল্লাটি আগে থেকেই ভাঙা ছিল। অসাবধানতাবশত বা অন্য কোনো কারণে তিনি সরাসরি নিচে আছড়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। বিষয়টি চোখে পড়তেই হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দেহ উদ্ধার করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে হাসপাতাল প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। একজন মানসিকভাবে অস্থির রোগী কীভাবে চারতলার ভাঙা জানালার কাছে পৌঁছালেন এবং কেন নিরাপত্তারক্ষীদের নজরে এড়িয়ে গেলেন, তা নিয়ে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ দানা বাঁধছে। জানা গিয়েছে, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নিজের বেডে স্থির থাকতেন না, বরং বিভিন্ন সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘোরাঘুরি করতেন। এই বিষয়টি হাসপাতালের নজরদারির অভাবকেই ইঙ্গিত করছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন হাসপাতালের এমএসভিপি ডক্টর প্রিয়ঙ্কর রায়। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে যে, কোনো গাফিলতি ছিল কি না। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঠিক কী কারণে তিনি জানালার কাছে গেলেন বা এটি নেহাতই দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্ত শেষ হলেই পরিষ্কার হবে। হাসপাতাল চত্বরে এমন ঘটনায় সাধারণ রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।





