সীমান্তে কড়া অবস্থান! মালদায় শত শত অনুপ্রবেশকারীর প্রচেষ্টা রুখে দিল বিএসএফ

পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের বড়সড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিল সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত সুখদেবপুর এলাকায় শত শত বাংলাদেশী নাগরিককে জড়ো হয়ে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায়। খবর পেয়েই বিএসএফ এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথ উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অনুপ্রবেশকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করে।

সীমান্তে চরম উত্তেজনা সুখদেবপুরের এই এলাকাটি আগে থেকেই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের জন্য কুখ্যাত। গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই সীমান্ত পারাপারের বিভিন্ন ঘটনায় এই এলাকাটি বারংবার শিরোনামে উঠে এসেছে। শনিবারের এই সমাবেশে বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তিও ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএসএফ-এর তৎপরতায় কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুপ্রবেশকারীদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে বিএসএফ-কে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত প্রাক্তন বিএসএফ কর্মকর্তা সমীর মিত্র এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, “সুখদেবপুর সীমান্ত দিয়ে শুধু অনুপ্রবেশ নয়, জাল মুদ্রা ও চোরাচালানের মতো অপরাধও চলে। এই বৃহৎ সমাবেশের পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)-এর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা প্রয়োজন।”

সরকারের কড়া পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর সীমান্ত সুরক্ষায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো দীপঞ্জন চক্রবর্তী জানান, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফ-কে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ-এর মধ্যে সমন্বয় আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা নিশ্চিত যে, এই নতুন সমন্বিত উদ্যোগের ফলে অনুপ্রবেশ রুখতে শতভাগ সাফল্য মিলবে।”

সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয়দের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন পুরো এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে বিএসএফ।