সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিন শেষ? পুজোর আগেই লালবাজার থেকে বিশাল ‘অর্জুন বাহিনী’ গড়ার বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

রাজ্য পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের ভরসা বাড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কழাতে এবার এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে পুলিশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর ঠিক আগে আগে সম্পূর্ণ নতুন একটি স্পেশাল ফোর্স বা বিশেষ বাহিনী গঠনের কথা ঘোষণা করা হলো। লালবাজারের একটি বিশেষ সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর ও সুদূরপ্রসারী ঘোষণাটি করেছেন। তাঁর এই ঘোষণায় রাজ্য পুলিশ মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন অপরাধ দমন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে বারবার নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে তাদের আচরণ এবং পুলিশি দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের অভাব নিয়ে নানা মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এই সমস্ত নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই এবার পাকাপাকিভাবে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ওপর থেকে নির্ভরতা পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলে সরাসরি পেশাদার ও প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মী নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই আসন্ন দুর্গাপুজোর উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে প্রায় দুশো জন সদস্যকে নিয়ে একটি অত্যন্ত কড়া ও সুশৃঙ্খল ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, লালবাজারের ওই জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সামনেই এই বাহিনী গঠনের রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়। এই নতুন ‘অর্জুন বাহিনী’ মূলত খাস কলকাতার সংবেদনশীল এবং জনবহুল এলাকাগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। শুধু তাই নয়, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা, আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা অবনতি রোধ করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই বিশেষ বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুজোর ভিড় সামলানোর পাশাপাশি শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বেশি নিখুঁত ও মজবুত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন মনে করছে, এই ধরনের প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনী তৈরির ফলে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি কমবে এবং পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পুজো শুরুর আগেই এই নতুন বাহিনীকে পুরোপুরি ময়দানে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। সবমিলিয়ে, সিভিক ভলান্টিয়ার নির্ভরতা কমিয়ে পুলিশ প্রশাসনে পেশাদারিত্ব ফেরানোর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাংলার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty