ব্যাটারি লাইফ থেকে এআই—কী দেখে ফোন কিনছেন আজকের গ্রাহক? অ্যামাজনের বিস্ফোরক সমীক্ষায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

স্মার্টফোনের বাজারে গ্রাহকদের পছন্দ এবং চিন্তাভাবনায় এখন এক বিরাট পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন আর কেবল ক্যামেরার মেগাপিক্সেল বা র্যামের ওপর ভিত্তি করে অন্ধের মতো ফোন কেনে না। সম্প্রতি অ্যামাজন ইন্ডিয়ার প্রকাশিত ‘বেস্ট ইন টেক সার্ভে’ নামক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ওই সমীক্ষা অনুসারে, আজ প্রায় ৮২ শতাংশ গ্রাহকের নতুন স্মার্টফোন কেনার মূল সিদ্ধান্তটি সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ফিচারের ওপর নির্ভর করছে। মূলত ২০২৬ সালের জুলাই মাসে পরিচালিত এই বিশাল সমীক্ষায় দেশের ৪০, হাজারেরও বেশি সচেতন গ্রাহক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই সমীক্ষাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে যে মোবাইল ফোনের বাজারে এআই একটি সম্পূর্ণ যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়েছে। তবে আধুনিক যুগের মানুষ এখন কেবল নামের ওয়াস্তে এআই চায় না, বরং তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা জটিল প্রয়োজনের সাথে সরাসরি মানানসই ফিচারগুলিই তাদের প্রধান পছন্দ।
সমীক্ষার পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ২৫ শতাংশ গ্রাহক এমন কনটেক্সচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স ফিচার চান যা ব্যবহারকারীর আসল প্রয়োজন নিমিষে বুঝতে পারে এবং স্ক্রিনে কিছু খোঁজা কিংবা মেসেজের সঠিক উত্তর সাজেস্ট করার মতো দারুণ পরামর্শ দিতে পারে। এর ঠিক পরেই রয়েছে ১৮ শতাংশ মানুষের পছন্দ—জেনারেটিভ ফটো এডিটিং। অন্যদিকে, ১৭ শতাংশ গ্রাহক ভিজ্যুয়াল সার্চ অত্যন্ত পছন্দ করেন, আর ১১ শতাংশ গ্রাহক চান অ্যাডাপ্টিভ ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট। এই পরিসংখ্যান থেকে এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, আধুনিক ফিচারের ভিড়েও গ্রাহকদের কাছে ফোনের শক্তিশালী ব্যাটারি লাইফ এখনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে এআই নিয়ে উন্মাদনা দিনদিন বাড়ছে, তবুও ফোনের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলির গুরুত্ব একটুও কমে যায়নি। আজও দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ গ্রাহক প্রসেসরের পারফরম্যান্সকে ফোন কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন। এর ঠিক পরেই রয়েছে ব্যাটারি লাইফ, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ গ্রাহক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। এছাড়া নতুন ফোন কেনার সময় ৭৭ শতাংশ গ্রাহক ক্যামেরার গুণগত মান যাচাই করে নেন। তবে এখনও বর্তমান ফোন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কিছু ক্ষোভ রয়েছে; বিশেষ করে ২২ শতাংশ গ্রাহক তাঁদের বর্তমান ফোনের দুর্বল ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ক্যামেরার মান ও সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়েও কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে।
এই সমীক্ষার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের প্রতি ক্রেতাদের হু হু করে বাড়ন্ত উন্মাদনা। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি তিনজন গ্রাহকের মধ্যে অন্তত একজন তাঁদের পরবর্তী ফোনটির জন্য ৫০,০০০ টাকারও বেশি খরচ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ গ্রাহক ৫০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকার বাজেটে ফোন খুঁজছেন এবং আরও ১৭ শতাংশ গ্রাহক ৭৫,০০০ টাকার বেশি দামের প্রিমিয়াম ফোন কিনতে উদগ্রীব। তবে ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টটিই এখনও বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয়, যেখানে প্রায় ৪২ শতাংশ ক্রেতা এই বাজেটের মধ্যেই নতুন হ্যান্ডসেট খুঁজছেন। অন্যদিকে, ১৫,০০০ টাকার কম দামের বাজেট ফোন মাত্র ৭ শতাংশ গ্রাহকের পছন্দ তালিকায় জায়গা পেয়েছে।
বর্তমান যুগে মানুষ আর ঘন ঘন মোবাইল ফোন বদলাতে পছন্দ করে না। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৫৪ শতাংশ গ্রাহক একটানা দুই বছর বা তারও বেশি সময় ধরে তাঁদের একটিমাত্র মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এর পাশাপাশি, প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষ আগামী তিন মাসের মধ্যেই তাঁদের পুরোনো ফোনটি আপগ্রেড করার পাকা পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। তবে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানটি এসেছে দেশের ছোট শহরগুলি থেকে। জানা গেছে, ৭৫,০০০ টাকার বেশি দামের মহার্ঘ ফোন কেনার আগ্রহীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ মেট্রো শহরের হলেও, টিয়ার-২ শহরের ১৭ শতাংশ এবং টিয়ার-৩ শহরের ১৫ শতাংশ মানুষও এই দামী ফোনগুলি কেনার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।