বিলবোর্ড সলতে পাকাতেই ধুন্ধুমার! ঠিক কী কারণে মেজাজ হারিয়ে ফুঁসে উঠলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? জানুন আসল সত্য!

রাজধানী কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও হাই-প্রোফাইল এলাকা ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অফিস চত্বরকে ঘিরে আজ এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এলাকার একটি বিতর্কিত বিলবোর্ড স্থাপন ও অপসারণকে কেন্দ্র করে পুরকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার এবং তাঁদের ধাক্কা মারার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খোদ অভিষেকের বিরুদ্ধে। এই আকস্মিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেকের নিজস্ব অফিস সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশাল বিলবোর্ড বসানোকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই এলাকায় পৌরসভার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী ও অনুমতিকে উপেক্ষা করে একটি নতুন বিলবোর্ড লাগানোর কাজ চলছে—এমন খবর পেয়েই কলকাতা পৌরসংস্থার একদল কর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা সরকারি বিধি মোতাবেক ওই অবৈধ কাঠামোটি সরাতে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগের তীর খোদ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে; প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, সেই সময় অফিস থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক স্বয়ং পৌরকর্মীদের সঙ্গে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁদের বাধা দেন। এমনকি কর্তব্যরত পুরকর্মীদের শারীরিকভাবে ধাক্কা মারার এবং তাঁদের কলার ধরে টানার মতো অভূতপূর্ব ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একে সরাসরি ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং ‘আইনশৃঙ্খলা ভাঙার নগ্ন নিদর্শন’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে যদি কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেন এবং সরকারি ও পৌরকর্মীদের ওপর হাত তোলেন বা হেনস্থা করেন, তবে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অসাংবিধানিক।
অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, বিরোধীরা চক্রান্ত করে তৃণমূল নেতৃত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই ধরণের কাল্পনিক ও বানোয়াট গল্প ফাঁদছে। সম্পূর্ণ ঘটনার জেরে ক্যামাক স্ট্রিট চত্বর বেশ কিছু সময় ধরে চরম উত্তেজনা ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিশৃঙ্খলা থামানোর চেষ্টা করে। এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী সাফাই দিচ্ছেন এবং আইনি ও রাজনৈতিক স্তরে এর জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।