‘আমার শরীর আমার ইচ্ছে বললেই সব চলে না!’ উৎসবের মাঝে পোশাক বিতর্ক নিয়ে সরাসরি কাকে কাঠগড়ায় তুললেন প্রিয়াঙ্কার মা?

সম্প্রতি জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের একটি রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে পরিহিত পোশাককে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিরাট ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। নামী গয়নার ব্র্যান্ড GIVA-র ওই বিজ্ঞাপনটিতে কৃতির আধুনিক পোশাক নির্বাচন নিয়ে নেটদুনিয়ার একাংশ তীব্র আপত্তি তোলে এবং ব্যাপক সমালোচনা শুরু করে। এই উত্তপ্ত বিতর্কের আবহে এবার বিষয়টিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মা তথা প্রবীণা ব্যক্তিত্ব মধু চোপড়া।
মুম্বইতে সম্প্রতি আয়োজিত ‘উওমেন বিল্ডিং সিনেমা টুগেদার’ নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মধু চোপড়া এই সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং স্বাধীনতা অবশ্যই অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু তার পাশাপাশি সমাজের অন্যান্য মানুষের ভাবাবেগকে যথাযথ সম্মান জানানোর একটা সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখাও সমানভাবে প্রয়োজন। এই বিতর্ক সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি ও মর্যাদার মধ্যে থেকে ‘আমার শরীর, আমার ইচ্ছে’ বলাটা শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু সেই শালীনতার গণ্ডিটা সব সময় বজায় রাখা দরকার। মর্যাদা রক্ষা করা এবং অন্যদের ভাবাবেগকে সম্মান করাটা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের আধুনিক জিনিস এমন সব জায়গায় করা যেতে পারে যেখানে এগুলো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু আমাদের এই সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি একেবারেই স্বাভাবিক নয়। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমাদের এই বাস্তব সত্যটিই মেনে নিতে হচ্ছে।”
চলচ্চিত্র জগতের তারকা ও অভিনেতাদের কাজের খাতিরে নানা ধরনের বোল্ড বা ভিন্নধর্মী পোশাক পরা নিয়ে বলতে গিয়ে মধু চোপড়া নিজের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিভিন্ন উদাহরণের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি জানান যে, প্রফেশনাল কাজের খাতিরে কিংবা নিজেদের ব্যক্তিগত শখের বশে এই ধরনের আধুনিক পোশাক পরার মধ্যে আদতে কোনো ভুল কিছু নেই। তবে তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিমত হলো, পুরো বিষয়টি যেন সবসময় নান্দনিকভাবে মার্জিত ও গ্রহণযোগ্য হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরাও পরে, প্রফেশনাল কাজের জন্য পরে, আবার নিজেদের শখেও পরে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, পোশাকটি সবসময় নান্দনিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। দেখতে যদি সুন্দর ও মার্জিত লাগে, তবে সবকিছুই ভালো দেখায়। এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হয়তো বিষয়টি সেই নান্দনিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, আর সেই কারণেই আজ এত কথা ও সমালোচনা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এই সমস্ত বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয়েছিল কৃতি শ্যাননের অভিনীত একটি রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। ওই বিজ্ঞাপনে কৃতিকে একটি আকর্ষণীয় আইভরি রঙের লেহেঙ্গা পরতে দেখা গিয়েছিল, যার সঙ্গে ছিল একটি ডিপ-নেক ব্লাউজ এবং একটি স্টাইলিশ কেপ। যদিও তাঁর এই ফ্যাশনেবল লুক বহু ভক্তের দারুণ পছন্দ হয়েছিল, তবুও সোশ্যাল মিডিয়ার একটি রক্ষণশীল অংশ এই পোশাককে ভারতীয় উৎসব ও সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে সম্পূর্ণ ‘অনুপযুক্ত’ বলে তীব্র আক্রমণ শানায়। এই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে এর আগে অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন নিজে পাল্টা প্রশ্ন তুলে জানতে চেয়েছিলেন, কেন সবসময় একজন মহিলার পোশাকের পছন্দকে তাঁর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার মাপকাঠিতে মাপা হবে।
এদিকে তীব্র জনরোষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত গয়নার ব্র্যান্ড GIVA বাধ্য হয়ে ওই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ তুলে নিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে ওই জনপ্রিয় ব্র্যান্ডটি জানিয়েছে যে তারা ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রতিটি উৎসবের পবিত্রতাকে গভীরভাবে সম্মান করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য কখনোই কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত হানা ছিল না। ব্র্যান্ডটির প্রকাশিত বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, “আমরা ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের দিনগুলোকে অত্যন্ত গভীরভাবে সম্মান করি। একটি দায়িত্বশীল ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সবসময় পরিবারের সঙ্গে এই খুশির মুহূর্তগুলো উদযাপন করতে চেয়েছি এবং এবার আমাদের উদ্দেশ্য ছিল পোষ্যদেরও সেই ভালোবাসার অংশ করে তোলা। আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনো অংশের অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তবে তা আমাদের বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না। সকলের সম্মানের খাতিরে আমরা সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া ও মাধ্যম থেকে ওই বিজ্ঞাপনটি সঙ্গে সঙ্গে তুলে নিয়েছি। এই উৎসবের মরসুমে আপনাদের সকলের জন্য রইল আমাদের আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভকামনা!”