সিনেমা হলের পপকর্ন কাণ্ডে তোলপাড়! শুধু খাবার বিক্রি করে ২ হাজার কোটির মালিক পিভিআর আইনক্স, জানুন অবিশ্বাস্য তথ্য

সিনেমা হলে গিয়ে পপকর্ন ও কোল্ড ড্রিংকস কিনতে গিয়ে পকেট ফাঁকা হচ্ছে? এই চটকদার অভ্যাসই এবার ভারতের বৃহত্তম মাল্টিপ্লেক্স চেন পিভিআর আইনক্স-এর জন্য সোনার ডিম পাড়া হাঁস হয়ে উঠেছে। সিনেমা হলের টিকিটের চড়া দাম বা বক্স অফিসের ভরাডুবি—কোনো কিছুতেই থমকে থাকছে না এই বিনোদন দানবটির বিশাল সাম্রাজ্য। বরং হলের অন্ধকারে পপকর্ন, সোডা এবং মুখরোচক স্ন্যাকস বিক্রি করেই তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক প্রকাশিত আর্থিক বছর ২০২৬-এর ত্রৈমাসিক এবং বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র খাদ্য ও পানীয় বিক্রি করেই পিভিআর আইনক্সের ঘরে এসেছে অবিশ্বাস্য দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ। এই বিপুল অংকের রেভিনিউ দেশের বহু নামী দামি ফাস্ট-ফুড এবং কুইক সার্ভিস রেস্তোরাঁ চেনের সম্মিলিত বার্ষিক ব্যবসাকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে। ফলে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের চিরাচরিত ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং সিনেমার চেয়েও বড় সুপারস্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে থিয়েটারের সেই সুস্বাদু পপকর্ন বাস্কেট।
চলচ্চিত্র দুনিয়ার পেছনের এই চমকপ্রদ অর্থনীতির মূল কারণ হলো টিকিটের বিক্রয়লব্ধ অর্থের বড় একটি অংশ চলে যায় সরাসরি ফিল্মমেকার এবং ডিস্ট্রিবিউটারদের পকেটে। যেখানে বক্স অফিসের মোট কালেকশনের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বন্টন করতে হয়, ঠিক তার বিপরীতে ফুড অ্যান্ড বেভারেজেস বা এফঅ্যান্ডবি ব্যবসা সম্পূর্ণ নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকে। পপকর্ন, সামোসা, কোল্ড ড্রিংকস এবং অন্যান্য গোরমে খাবারের ওপর পিভিআর আইনক্সের মতো কর্পোরেট জায়ান্টদের প্রফিট মার্জিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। কোনো বড় বাজেটের মেগাস্টার সিনেমা বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও এই উচ্চ মার্জিনের স্ন্যাক্স ব্যবসা কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো এবং আর্থিক নিরাপত্তাকে সবসময় মজবুত রাখে। আর্থিক বছর ২০২৬-এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই নির্দিষ্ট বছরে কোম্পানির মোট রেভিনিউ ছুঁয়ে ফেলেছে ৬,৭৪৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে শুধুমাত্র টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ৩,৫৩০ কোটি টাকা বা মোট আয়ের ৫২.৩ শতাংশ। অন্যদিকে, পপকর্ন এবং অন্যান্য জলযোগ সামগ্রী বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি পকেটে পুরেছে ২,০৮৮ কোটি টাকা, যা তাদের মোট আয়ের প্রায় ৩১ শতাংশ। এছাড়া বিজ্ঞাপন বাবদ ৪৬৪ কোটি টাকা এবং কনভেনিয়েন্স ফি বা সুবিধা শুল্ক হিসেবে ৬৬১ কোটি টাকার বাম্পার কামাই হয়েছে।
সিনেমার পর্দা এবং অডিটোরিয়ামের চার দেওয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে পিভিআর আইনক্স এখন আরও বড় পরিসরে ব্যবসার বিস্তার ঘটাচ্ছে। থিয়েটারের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই বিশাল ফুড সাম্রাজ্যকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কেএফসি এবং পিৎজা হাট পরিচালনকারী সংস্থা দেবयाনি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ উদ্যোগ বা জয়েন্ট ভেঞ্চার গঠন করেছে কোম্পানিটি। এই স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে শপিং মলগুলোতে এক্সক্লুসিভ ফুড কোর্ট স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সিনেমা দেখতে না আসা সাধারণ মল ভিজিটররাও সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন পিভিআর-এর বিশেষ খাবারদাবার। সুইগি এবং জোম্যাটোর মতো ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে বাইরেও খাবার সরবরাহ করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে পপকর্নের সুবাস আর ক্রাঞ্চ শুধু সিনেমা হলের অন্ধকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভারতের খুচরা খাদ্য ও পানীয় বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে পিভিআর আইনক্স।