‘সিজারের পরিণতির ইঙ্গিত!’: বিধানসভা ভোটের ফলের পরেই বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই ফের তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি। এবার দলেরই রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের এক ইঙ্গিতপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। সরাসরি তৃণমূলের অন্দরের ‘নৈরাজ্য’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি কি বড় কোনো সংকেত দিলেন? তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

মঙ্গলবার সকালে করা ওই পোস্টে সুখেন্দুশেখর রায় রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর ইতিহাস টেনে এনেছেন। তিনি লিখেছেন, “খ্রিস্টপূর্ব ৪৪-এ, মার্চের আইডসে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারকে সেনেটে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু মে মাসের আইডসের আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে।” প্রবীণ এই নেতার এই ‘অসহনীয় নৈরাজ্য’ শব্দবন্ধটি সরাসরি তৃণমূল সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের দিকে ইঙ্গিত: সাংসদ মূলত গত লোকসভা নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণের দিকে নজর দিয়েছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ২৯টি আসনে জয়লাভ করা তৃণমূলের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে দলের এই ভরাডুবি কেন হলো, তা নিয়ে রীতিমতো সরব প্রবীণ সাংসদ।

দলের সাথে দূরত্ব কি আরও বাড়ল? আরজি কর কাণ্ডের সময় থেকেই দলের মূল স্রোত থেকে সুখেন্দুশেখরের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ‘রিক্লেম দ্য নাইট’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি সরাসরি দলের লাইনের বাইরে গিয়ে সরব হয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সেই দূরত্ব কিছুটা কমলেও, ভোটের ফল প্রকাশের পরই তাঁর এই নতুন পোস্ট বুঝিয়ে দিল, দলের অন্দরে মতপার্থক্য এখনো মিটমাট হয়নি।

সম্প্রতি ‘জাগো বাংলা’র সম্পাদকের পদ থেকে তাঁকে সরানো এবং জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আনছেন। ভোটের মুখে দলের হয়ে ব্যাটিং করলেও, নির্বাচনের ফল বেরোতেই প্রবীণ নেতার এই ভিন্ন সুর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নতুন করে ভাবাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy