সামান্য ভুলেই হতে পারে অমঙ্গল! জেনে নিন দুর্বা বিনায়ক চতুর্থীর সঠিক সময় ও নিয়ম

পবিত্র শ্রাবণ মাস হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র ও মাহাত্ম্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, কারণ এই মাসটি একই সঙ্গে ভগবান শিব এবং বিঘ্নহর্তা ভগবান গণেশের আরাধনার জন্য একান্ত উপযোগী। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিটি ‘দুর্বা গণেশ চতুর্থী’ বা ‘দুর্বা গণপতি ব্রত’ নামে অত্যন্ত সমাদৃত। এই পবিত্র দিনে দেবাদিদেবের নয়, বরং ভগবান গণেশকে একগুচ্ছ দুর্বা ঘাস নিবেদন করার এক বিশেষ ও অনন্য তাৎপর্য রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যে সমস্ত বিবাহিত নারী এবং ভক্তরা এই ব্রত পালন করেন ও নিষ্ঠাভরে গণপতির পুজো করেন, তাঁদের জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি কেটে যায় এবং তাঁদের সংসার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। তবে চলতি বছরে পঞ্জিকার তিথি পরিবর্তনের কারণে ১৬ নাকি ১৭ আগস্ট—কোন দিন এই উপবাস পালন করা হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে তীব্র বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা। আজকের এই প্রতিবেদনে পঞ্জিকা মতে সঠিক তারিখ, শুভ লগ্ন এবং সহজ পুজো পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ গণনার সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ২৮ মিনিটে এবং এই তিথি শেষ হবে ১৬ আগস্ট বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে। হিন্দু সনাতন ধর্মে উদয় তিথির বিশেষ গুরুত্ব থাকায়, পঞ্জিকার নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৬ আগস্ট, রবিবারই মূল দুর্বা গণেশ চতুর্থীর ব্রত বা উপবাস পালন করা হবে। এই বিশেষ দিনে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগে যে, কীভাবে এই ব্রত পালন করলে গণপতি মহারাজ সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হন। এই ব্রতের মূল আকর্ষণ হলো দুর্বা ঘাস, যা বিঘ্নহর্তার অত্যন্ত প্রিয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, গণেশের পুজোয় দূর্বা অর্পণ না করলে পুজো সম্পূর্ণ হয় না।
দুর্বা গণেশ চতুর্থীর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাতঃকৃত্য সেরে স্নান সেরে নিন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করুন। এরপর আপনার ঘরের পুজোর স্থানটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে সেখানে ভগবান গণেশের একটি মূর্তি বা ছবি ভক্তিভরে স্থাপন করুন। গণপতির সামনে শুদ্ধ ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে ব্রত পালনের সংকল্প গ্রহণ করুন। এর পর ভগবান গণেশকে গঙ্গাজল, অক্ষত বা চাল, রোলি, তাজা ফুল এবং বিশেষভাবে নির্বাচিত পবিত্র দুর্বা ঘাস অর্পণ করুন। গণেশজির অত্যন্ত প্রিয় মোদক কিংবা নাড়ু তাঁর চরণে নৈবেদ্য হিসেবে নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। পুজো চলাকালীন একটানা ‘ওম গণ গণপতয়ে নমঃ’ এই মহামন্ত্রটি জপ করতে থাকুন। পুজো সম্পূর্ণ হওয়ার পর গণেশ চতুর্থীর ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ করুন এবং সবশেষে ধূপ-দীপ জ্বেলে ভগবান গণেশের আরতি সম্পন্ন করুন। এছাড়া আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী কোনো অভাবী বা দরিদ্র ব্যক্তিকে অন্ন বা বস্ত্র দান করতে পারেন, যা পূজার পুণ্য ফল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।