সামরিক শাসনের সিঁদুরে মেঘ! সেনাপ্রধান মুনিরকে ৩ বাহিনীর প্রধান করার গোপন ছক?

পাকিস্তানের রাজনীতিতে আবারও সেনার ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে চরম উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।

বিরোধীদের অভিযোগ, “মুনিরের ক্ষমতা এত বেশি বাড়ানো হলে দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে এবং গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।”

সরকারের প্রস্তাবিত ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীর ফলে পাকিস্তানের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্য সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হবে এবং সেনাবাহিনীর ক্ষমতা অভূতপূর্বভাবে বেড়ে যাবে বলে দাবি করছেন আইন প্রণেতাদের একাংশ।

তিন বাহিনীর প্রধান: এই সংশোধনীর ফলে সেনাপ্রধান আসিম মুনির একাই স্থল, জল ও বায়ুবাহিনীর প্রধান (Chief of Defence Staff-এর মতো পদ) হয়ে উঠবেন।

আজীবন সুরক্ষা: পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের এক নেতার অভিযোগ, এই সংশোধনী অনুসারে ফিল্ড মার্শাল মুনির আজীবন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

মামলা থেকে মুক্তি: সবথেকে মারাত্মক অভিযোগ হল, তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কোনওদিন মামলা দায়ের করতে পারবে না। অর্থাৎ, আইন-শাসনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হবে তাঁকে।

ওই নেতার দাবি, “মুনির নিজের অপকর্মের জন্য এতটাই ভীত যে চারপাশে একটি প্রতিরক্ষার পাঁচিল তৈরি করতে চাইছেন। তাঁর লক্ষ্য হল কোনওদিন যাতে তাঁকে হাজতবাস করতে না হয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাবিব আকরাম দাবি করেছেন, এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য হল— সরকারকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে জায়গা দেওয়া। যদি এই বিল পাশ হয়ে যায়, তবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর উপর দেশের আইনকানুন বলবৎ করা যাবে না। এর জেরে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হবে এবং দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই সংশোধনী পাশ হয়ে গেলে পাকিস্তানে স্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। সেই আশঙ্কায় তেহরিক-ই-তাহাফুজ আয়েন-ই-পাকিস্তান দেশজুড়ে সরকার বিরোধী অভিযানের ডাক দিয়েছে। আইনজীবীরাও সরকারের এই চেষ্টাকে ‘সর্বনাশা’ বলে উল্লেখ করে কোর্ট ও সংবিধানকে অকেজো করে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারা বিলটি গত শনিবার সংসদে পেশ করেছেন এবং আরও আলোচনার জন্য তা একটি কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, সোমবারের মধ্যেই এই বিল নিয়ে ভোটভুটির সম্ভাবনা রয়েছে। বিলটি পাশ হওয়ার জন্য সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (কমপক্ষে ৬৪ জন সিনেটর) প্রয়োজন। এই বিল পাশ হবে কি না, তা নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে।