সাপ দেখলেই ওঝা-বৈদ্যের কাছে ছোটা কেন চরম বোকামি? মিরাটের বন আধিকারিকের চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা!

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মিরাট জেলায় গত কিছু দিন ধরে সাপ এবং বিশালাকার অজগর উদ্ধারের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে লাল কুর্তি বাজার, জাগৃতি বিহার এবং গঙ্গানগরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে ও গ্রামীণ এলাকাগুলোতে একের পর এক অজগর বেরিয়ে আসার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এই প্রজাতির অজগর বিষাক্ত হয় না, তবুও তাদের আক্রমণের ধরন এবং শারীরিক শক্তির কারণে বাসিন্দারা চরম ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বন্যপ্রাণী ও এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জেলা বন বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লোকাল১৮-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডিএফও বন্দনা ফোগাট এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করে জানান যে, মূলত বর্ষাকালেই সাপ ও অজগরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টি বা জমা জলের কারণে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল প্লাবিত হওয়ায় এই সরীসৃপগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় চলে আসে। বন বিভাগের বিশেষ উদ্ধারকারী দলগুলো খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরগুলোকে নিরাপদে উদ্ধার করে গভীর জঙ্গলে বা তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিএফও বন্দনা ফোগাট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষ যদি কোথাও কোনো সাপ দেখতে পান, তবে তারা যেন নিজেরা আইন নিজের হাতে তুলে না নেন বা সাপটিকে উত্যক্ত না করেন। অনেক সময় মানুষ সাপ বা অজগর দেখে আতঙ্কিত হয়ে তাদের উত্যক্ত করে বসেন, যার ফলে আত্মরক্ষার্থে প্রাণীটি আক্রমণ করে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাপে কাটলে বা আক্রমণের শিকার হলে আজও বহু মানুষ আধুনিক চিকিৎসা না করিয়ে ওঝা-বৈদ্যের কাছে জাদুটোনা বা তন্ত্রসাধনা করাতে শুরু করেন। এই মারাত্মক ভুল বিশ্বাসের কারণে শরীরে বিষ ছড়ানোর গতি আরও ত্বরান্বিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা রোগীর জীবন কেড়ে নেয়। তাই কোনো রকম অবহেলা বা ঝুঁকি না নিয়ে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। মিরাটের এই ক্রমবর্ধমান বন্যপ্রাণী সংকট থেকে সুরক্ষিত থাকতে সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।