সাত দশকের রাজত্ব শেষ! ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হংকং চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা প্যাট্রিক সে ইয়িন!

সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে এশীয় চলচ্চিত্র জগত ও হংকং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নিজের অসাধারণ অভিনয়ে সমৃদ্ধ করে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন প্রবীণ ও কিংবদন্তি অভিনেতা প্যাট্রিক সে ইয়িন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর ৮৯ বছর বয়সে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তাঁর এই প্রয়াণে গোটা বিনোদন জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। চলচ্চিত্র অনুরাগীদের কাছে যিনি ‘ব্রাদার ফোর’ বা ক্যান্টনিজ ভাষায় ‘সেই গোর’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন, তাঁর এই মহাপ্রয়াণে এক সোনালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

প্যাট্রিক সে-র প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করে তাঁর সন্তানরা জানান যে, জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি পরিবারের ভালোবাসায় পরিবেষ্টিত ছিলেন। তাঁর কন্যা জেনিফার সে এবং পুত্র নিকোলাস সে এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, দীর্ঘদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর হাসপাতালে অত্যন্ত শান্তিতেই মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের প্রিয় বাবা। হংকং সিনেমার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম অনুরাগ, অপ্রতিরোধ্য ব্যক্তিত্ব এবং বর্ণাঢ্য কর্মজীবন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এই শোকের মুহূর্তে পরিবারের গোপনীয়তা বজায় রাখার বিনীত অনুরোধও জানানো হয়েছে।

১৯৫৪ সালে ‘সেভ ইয়োর ওয়াটার সাপ্লাই’ ছবির মাধ্যমে রূপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করা প্যাট্রিক সে তাঁর সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। কমেডি, ড্রামা থেকে শুরু করে মার্জিত অ্যাকশন হিরো—সব চরিত্রেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৬৭ সালের কালজয়ী ছবি ‘স্টোরি অফ এ ডিসচার্জড প্রিজনার’ থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে স্টিফেন চাও পরিচালিত ‘শাওলিন সকার’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। ১৯৭০-এর দশকে ছোটপর্দায় পা রেখে টিভিবি-র একাধিক জনপ্রিয় সিরিজেও নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি।

১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে কিছুদিন কানাডায় কাটালেও ২০০০-এর দশকের শুরুতে তিনি অত্যন্ত সগৌরবে চলচ্চিত্র জগতে ফিরে আসেন। ২০১৯ সালে ৩৮তম হংকং ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এরপর ২০২২ সালে ব্ল্যাক কমেডি ছবি ‘টাইম’-এ একজন অবসরপ্রাপ্ত ভাড়াটে খুনির চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন। এশীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ এবং দীর্ঘমেয়াদী শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করে গেছেন।