মোদী সরকারের ঘোষণায় বন্ধ হতে চলেছে ১১ কোটি টিভি? সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো চাঞ্চল্যকর দাবির আসল সত্যটা কী?

সোশ্যাল মিডিয়ার অন্তর্জগতে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নীতির কারণে খুব শীঘ্রই নাকি দেশের প্রায় ১১ কোটি টিভি চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। একই সঙ্গে এও দাবি করা হয়েছে যে টিভি সম্প্রচার পরিষেবা আগের তুলনায় মারাত্মকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এই ভাইরাল হওয়া চাঞ্চল্যকর জল্পনার পেছনের আসল প্রেক্ষাপট এবং সত্যতা খতিয়ে দেখব।
ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটিতে মূলত দাবি করা হয়েছে যে, মোদী সরকারের একটি নতুন সিদ্ধান্তের জেরে সারা দেশে ১১ কোটি টিভি সেট অচল হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, এর আগে নাকি মোবাইল ফোনের প্রভাবে ১ কোটি টিভি ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং বর্তমান টিভি শিল্প চরম বিপদের মুখে রয়েছে বলে ওই পোস্টে তাত্ত্বিক অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এই জল্পনার সূত্রপাত হয় যখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক (MIB) গত ১২ জুন নতুন কিছু নিয়মের একটি খসড়া প্রকাশ্যে আনে। সেই খসড়ায় টিভি সম্প্রচার এবং টেলিকম সংস্থাগুলির জন্য অভিন্ন নিয়ম চালুর কথা বলা হয়। ভাইরাল পোস্টের দাবি অনুযায়ী, এই অভিন্ন নিয়মের ফলে ডিটিএইচ এবং কেবল টিভি পরিষেবা আমূল বদলে যাবে এবং পরিষেবা প্রদানকারী ও কেবল অপারেটররা তাদের মাসিক চার্জ চার থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে। এর জেরে কেবল টিভি বা ডিটিএইচ ব্যবস্থা একপ্রকার উধাও হয়ে যাবে এবং রাতারাতি লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারাতে পারেন বলে ভুয়ো বার্তা ছড়ানো হয়।
তবে এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর দাবির সত্যতা যাচাই করতে আসরে নামে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)। পিআইবি তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই সমস্ত দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন। কেন্দ্রীয় সরকার এমন কোনো নীতি বা নিয়ম প্রণয়ন করেনি যার ফলে ভারতে টিভি সাবস্ক্রিপশনের খরচ চার থেকে ছয় গুণ বৃদ্ধি পাবে কিংবা দেশের সমস্ত টিভি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে।
পিআইবি আরও জানিয়েছে যে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক মূলত ‘টেলিকমিউনিকেশনস (টেলিভিশন, রেডিও এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবা) বিধিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রকাশ করেছে। এই খসড়াটির ওপর বর্তমানে সর্বসাধারণের মতামত চাওয়া হচ্ছে এবং মতামত জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৭ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত। প্রকাশিত এই খসড়া বিধিমালায় অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধির বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিন্দুমাত্র উল্লেখ নেই। বরং এই নতুন বিধিমালা আনার মূল উদ্দেশ্য হলো টিভি এবং রেডিও সম্প্রচার পরিষেবার জন্য অতীতে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশিকাকে একত্রিত করা, যাতে সামগ্রিক ব্যবস্থাটি আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয় এবং সম্প্রচার খাতে কাজ করা আরও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। তাই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর আগে সকলকে সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।