সাতের পর ১৪ সেপ্টেম্বর। রবিবার রাজ্যজুড়ে দুপুর ১২টা থেকে শুরু হবে এসএসসির একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। গত রবিবার অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর ছিল স্কুল শিক্ষক নিয়োগের নবম-দশমের পরীক্ষা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের আজ শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় দফায় একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন সূত্রে খবর, রবিবার এসএসসির একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা । এই পরীক্ষায় বসতে চলেছেন ২,৪৫,৫০০ পরীক্ষার্থী। ৪৭৮টি পরীক্ষা কেন্দ্রে নেওয়া হবে। বেলা ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু। গত ৭ সেপ্টেম্বর ছিল নবম এবং দশম শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। সেখানে দেখা গিয়েছিল প্রায় দশ শতাংশ পরীক্ষার্থী ছিল ভিন্ন রাজ্যের। এখন দেখার একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষায় কত শতাংশ পরীক্ষার্থী থাকে ভিন রাজ্যের। পরীক্ষা নিয়ে কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী? এদিকে রবিবারের পরীক্ষা শুরুর আগেই শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী যা যা নির্দেশ দিয়েছিলেন আমরা সেই মোতাবেক এসএসসিকে জানিয়েছি এবং আমি সমস্ত পরীক্ষার্থীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, প্রশাসনের তরফে সর্বোচ্চ স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া আছে। আপনারা শান্তভাবে পরীক্ষা দিন। আমাদের দিক থেকে, দফতরের দিক থেকে তো বটেই, মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ স্তর থেকে এবং এসএসসি-ও নির্ভুল এবং অভ্রান্তভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা রাখছি, পরীক্ষা শান্ত এবং নির্বিঘ্নে শেষ হবে।” Related Articles বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্পোরেশনে প্রচুর শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ, জানুন আবেদনের শেষ তারিখ বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্পোরেশনে প্রচুর শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ, জানুন আবেদনের শেষ তারিখ আরজি.করের তরুণী চিকিৎসককে খুনের অভিযোগ, পুলিশের জালে অভিযুক্ত প্রেমিক আরজি.করের তরুণী চিকিৎসককে খুনের অভিযোগ, পুলিশের জালে অভিযুক্ত প্রেমিক জানা গিয়েছে, নানা টালবাহানার পর অবশেষে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা অর্থাৎ এসএসসি শুরু হয় গত রবিবার। দীর্ঘ নয় বছর পর স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা শুরু হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে অভিভাবকরা। গত রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যর বিভিন্ন জেলার স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পৌঁছে গিয়েছেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই। এই বছরে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি। এরমধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার ৩ লক্ষ ১৯ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন। কোন পথে চাকরিহারাদের ভবিষ্যত? প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কমিশনের জারি করার নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তিকে অবৈধ এবং ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন লুবানা পারভিন সহ বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের একাংশ। তাঁদের দাবি ছিল পরীক্ষায় বসার বয়সের সীমার ছাড় থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। ‌আইনজীবী ফিরদৌস শামিম, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন আদালতে। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সোমবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসএসসি-র নতুন বিজ্ঞপ্তিতে অনেক নিয়ম-বিধিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তির অনুরূপ নয়। নতুন এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম বদল হলে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ আরও কমে যাবে। কিন্তু সব পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে বিচারপতি জরুরী ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করে দেন। তারপরই পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শুরু হয় পরীক্ষা নেওয়ার তোড়জোড়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা। গত রবিবার, অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর, নবম এবং দশম শ্রেণির পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এই দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই পরীক্ষা ঘিরে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে যেমন উত্তেজনা রয়েছে, তেমনি সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রশাসনও তৎপর।

পরীক্ষার্থী সংখ্যা এবং পরীক্ষা কেন্দ্র:
পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) সূত্রে জানা গেছে, এই পরীক্ষায় মোট ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫০০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য রাজ্যজুড়ে ৪৭৮টি পরীক্ষা কেন্দ্র নির্দিষ্ট করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টা থেকে এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে নবম এবং দশম শ্রেণির পরীক্ষায় প্রায় ১০ শতাংশ পরীক্ষার্থী ভিন রাজ্যের ছিল, এখন দেখার এই দফায় সেই সংখ্যাটা কত থাকে।

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস:
পরীক্ষা শুরুর একদিন আগেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সাংবাদিক বৈঠকে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা যা নির্দেশ দিয়েছিলেন, আমরা সেই মোতাবেক এসএসসি-কে জানিয়েছি। আমি সমস্ত পরীক্ষার্থীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া আছে। আপনারা শান্তভাবে পরীক্ষা দিন। আমাদের দিক থেকে তো বটেই, মুখ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ স্তর থেকে এবং এসএসসি-ও নির্ভুল ও অভ্রান্তভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরীক্ষা শান্ত এবং নির্বিঘ্নে শেষ হবে।

চাকরিহারাদের আইনি লড়াই:
নয় বছর পর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও, এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিহারাদের একাংশ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কমিশনের জারি করা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তিকে ‘অবৈধ’ এবং ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন তারা। তাদের মূল দাবি ছিল, ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া এবং বয়সের ছাড় দেওয়া। কিন্তু আদালত এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করে দেওয়ায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

এই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন দিগন্ত খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরীক্ষার ফলাফল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ এবং ত্রুটিমুক্ত হয়।