সাড়ে ৪ মিনিটেই ভাষণ শেষ! বিধানসভায় রাজ্যপালের মুখে সরকারের স্তুতি, শুভেন্দুর ‘ওয়েল ডান’ ঘিরে তোলপাড়

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই বেনজির শোরগোল। একদিকে বিজেপি বিধায়কদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি, অন্যদিকে তৃণমূলের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান—এই দুইয়ের টানাপোড়েনের মাঝেই সংক্ষেপে ভাষণ শেষ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বক্তৃতার জন্য ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকলেও, মাত্র সাড়ে চার মিনিট পড়েই বিধানসভা কক্ষ ত্যাগ করেন তিনি। তবে এই স্বল্প সময়ের বক্তৃতায় রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে।
রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে দাবি করেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং কলকাতা বর্তমানে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর। কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্যপালের কথায়, “২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ৯৪টি জনমুখী প্রকল্প চলছে। এমএসএমই (MSME), স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ‘আনন্দধারা’র মতো সামাজিক উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ আজ দেশের এক নম্বর রাজ্য।”
ভাষণ চলাকালীনই ছন্দপতন ঘটে। রাজ্যপাল যখন কেন্দ্রের বকেয়া এবং রাজ্যের সাফল্যের খতিয়ান দিচ্ছিলেন, তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী চিৎকার করে ওঠেন, “এটা পলিটিক্যাল স্পিচ স্যার!” রাজ্যপাল বেরিয়ে যাওয়ার সময় শুভেন্দু তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ওয়েল ডান’ বলে হাততালি দেন। বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য বিদ্রূপ নাকি প্রশংসা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
রাজ্যপালের বক্তৃতায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী ও রূপশ্রীর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ উঠে আসে। কেন্দ্রের ১০০ দিনের টাকা বন্ধের মোকাবিলায় রাজ্যের ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি, ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেন রাজ্যপাল। সংক্ষেপে ভাষণ সেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে বিধানসভা ছাড়েন সিভি আনন্দ বোস।