সাড়ে ৩ লাখ নিয়োগের সুযোগ! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে বাজিমাত করছে ভারত

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর উত্থান নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে এক গভীর অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। Google, Meta, Amazon-এর মতো টেক জায়ান্টদের গণছাঁটাইয়ের ঘটনা সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। দিল্লিতে আয়োজিত ‘AI Summit 2026’-এ OpenAI-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং Anthropic-এর সিইও দারিও আমোদাইয়ের সতর্কতা সেই উদ্বেগকে আরও ঘনীভূত করে। তবে সব আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে ভারত। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘Quess Corp’s India AI Workforce Analysis 2026’ রিপোর্ট বলছে, AI দক্ষতায় বিশ্বে এখন অপ্রতিরোধ্য ভারত।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ৯ লক্ষ ২০ হাজার তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যারা AI ব্যবহারে পারদর্শী। বিশ্বের মোট AI কর্মশক্তির নিরিখে এটি একটি রেকর্ড। এর মধ্যে ২৮ শতাংশ বা প্রায় ২ লক্ষ ৫৭ হাজার কর্মী ‘কোর AI’ (Core AI) বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার বিচারে নয়, বরং গুণগত মানেও ভারতকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছে।
নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই বিশাল পরিবর্তন স্পষ্ট। গত তিন মাসে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ AI-নির্ভর কাজের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে LangChain, RAG, LLMOps এবং AI Governance-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাজের চাহিদা তুঙ্গে। ফিনান্স, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স এবং এমপ্লয়ি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মতো ক্ষেত্রগুলোতে আইটি সার্ভিস ফার্মগুলো এখন পুরোপুরি AI-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে প্রথাগত আইটি কাজের গণ্ডি পেরিয়ে এখন নতুন ধরনের বিশেষজ্ঞ কর্মীদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।
এই সাফল্যের নেপথ্যে তিনটি মূল চালিকাশক্তি কাজ করছে বলে মনে করছেন ‘Quess IT Stuffing’-এর সিইও কপিল জোশী। প্রথমত, গ্লোবাল ক্যাপাসিটি সেন্টারগুলো (GCC) এখন AI প্ল্যাটফর্ম এবং গভর্নেন্স তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। দ্বিতীয়ত, বড় বড় আইটি সংস্থাগুলো তাদের কাজের প্রক্রিয়ায় AI-কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এবং তৃতীয়ত, সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় AI-কে সঙ্গী করে নিয়েছে।
কপিল জোশীর মতে, এই পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন পেশাদার কর্মীদের দক্ষতা বাড়ছে, তেমনই নতুন ফ্রেসার্সরা দ্রুত AI শেখার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছে। চাকরির বাজার সংকুচিত হওয়ার যে ভয় একসময় তৈরি হয়েছিল, তা এখন ‘স্কিলিং’ বা নতুন দক্ষতা অর্জনের উৎসাহে রূপান্তরিত হয়েছে। ভারত এখন কেবল জনশক্তির দেশ নয়, বরং উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক কারিগরে পরিণত হয়েছে। যারা সময়মতো নিজেদের বদলে নিতে পারছেন, তাদের কাছে এই AI বিপ্লব এখন আশীর্বাদ হয়েই ধরা দিচ্ছে।