সাড়ে পাঁচ হাজার আবেদন ছাপিয়ে চূড়ান্ত মাত্র ৩ জন! অযোধ্যা রামমন্দিরের প্রথম CEO কে হচ্ছেন?

ইতিহাসে প্রথমবার মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক বা CEO পেতে চলেছে অযোধ্যার ঐতিহাসিক রামমন্দির। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে দীর্ঘ বাছাই পর্ব পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনজনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ ও ১২ অগস্ট অযোধ্যায় রামমন্দির চত্বরে ১৬ জন বাছাই করা প্রার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছিল। বিচারক থেকে বিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান কমিটি দীর্ঘ মূল্যায়ন শেষে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করেছে। এবার এই তালিকা ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট বোর্ড’-এর কাছে সুপারিশ করা হবে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসারেই খুব শীঘ্রই দেশের প্রথম রামমন্দিরের সিইও-র নাম ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার কড়া ধাপ: রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ ও অব্যবস্থাপনার সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কড়া নিয়মে করা হচ্ছে। ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে মোট ৫,৫৮৫টি আবেদন জমা পড়েছিল। যার মধ্যে ৩,৮৭৭ জন প্রার্থী তাঁদের বিস্তারিত সিভি জমা দেন। ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা, বড় ইভেন্ট ও কর্মী পরিচালনার অভিজ্ঞতা, দূরদর্শী চিন্তা এবং ভাষাগত দক্ষতার মতো বিভিন্ন কঠিন মাপকাঠিতে যাচাই করা হয় প্রার্থীদের।
এরপর ধাপে ধাপে বাছাই করে ১১১ জন প্রার্থীকে অনলাইন আলোচনার জন্য ডাকা হয়। সেখান থেকে ১৬ জন দক্ষ প্রার্থীকে সশরীরে ইন্টারভিউয়ের জন্য অযোধ্যায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা এই তিনজনের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের নামী ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা।
কী কাজ হবে নতুন সিইও-র? জানা গিয়েছে, তিন বছরের চুক্তিতে এই পদে নিয়োগ করা হবে। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান হিসেবে ট্রাস্টের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন সিইও। মন্দিরের দৈনন্দিন কাজকর্ম সামলানো, আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা, সরকারি সংস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়, ধর্মীয় উৎসব তদারকি এবং ভক্তদের সর্বাঙ্গীন সুবিধা নিশ্চিত করার বড় দায়িত্ব থাকবে তাঁর কাঁধে।