সাক্ষাৎকার চলাকালীন হঠাৎ ফার্সি ভাষায় কথা! সাংবাদিকের সাহসিকতা দেখে থ গোটা বিশ্ব মিডিয়া

বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) বা এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের ‘সক্রিয় কূটনীতি’ বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ইরানের সরকারি ব্রডকাস্টার IRIB-এর বিশিষ্ট সাংবাদিক ইউসেফ সালামি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের শত চেষ্টা সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে তেহরান নিজের যোগাযোগ এবং প্রভাব ক্রমশ বাড়িয়ে চলেছে। এই গোষ্ঠীর সদস্য রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ইরানের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন অনেক বেশি সুদৃঢ়।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সালামি নিজের দৃঢ় অবস্থান ও সাংস্কৃতিক গর্বের এক অনন্য নিদর্শন স্থাপন করেন। সাক্ষাৎকার শুরু করার ঠিক মুহূর্তেই তিনি ফার্সি ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। তিনি জোরালো কণ্ঠে জানান যে ইরান তাদের মাতৃভাষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং বিশ্বজুড়ে এর প্রচার ও প্রসার ঘটাতে চায়। সালামি বলেন, “আমি ফার্সিতেই কথা বলব, আপনারা পরে যেকোনো ভাষায় অনুবাদ করে নিতে পারবেন। কারণ আমরা আমাদের ভাষাকে ভালোবাসি এবং এর প্রসার চাই।” বিশকেকের মাটিতে কিরগিজ জনগণের সান্নিধ্যে থাকতে পেরে তিনি গভীর আনন্দ প্রকাশ করেন এবং জানান যে ইরানের প্রেসিডেন্ট ডঃ মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তেহরান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
সালামির মতে, আমেরিকা এবং ইজরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে আন্তর্জাতিক মহল থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলার সর্বাত্মক চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসসিও সম্মেলনের মতো এত বড় বৈশ্বিক মঞ্চে ইরানের এই শক্তিশালী উপস্থিতি সমস্ত চক্রান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে গোটা বিশ্ব আজ ইরানকে ভালোভাবে চেনে এবং তেহরানের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে উদগ্রীব। এর আগে সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এসসিও সদস্য দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলন এবং সাংহাই প্লাস সমাবেশে যোগ দিতে বিশকেক এসে পৌঁছান। ইরান ছাড়ার প্রাক্কালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে তেহরান কোনো যুদ্ধ চায় না, তবে দেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব অত্যন্ত দৃঢ় ও শক্তির সঙ্গেই দেওয়া হবে। মধ্য এশিয়ার এই অঞ্চলের হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমেই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, ২৬তম এসসিও নেতৃত্ব শীর্ষ সম্মেলনে বর্তমানে ১০টি সদস্য রাষ্ট্র, ১৫টি সহযোগী দেশ এবং ২টি পর্যবেক্ষক দেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমস্যাগুলি সমাধান করতে একত্রিত হয়েছে। বিশ্ব জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই শক্তিশালী সংগঠনটি পারস্পরিক বিশ্বাস, বন্ধুত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিশকেকের এই হাই-প্রোফাইল সম্মেলন থেকে তেহরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।