‘দক্ষিণী সিনেমার কায়দায়’ গাড়িতে হামলা, কুণাল ঘোষের ওপর হামলার ঘটনায় শোরগোল

রাজ্য রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্যকর উত্তেজনা। কলকাতার বুকে পরপর তিন দিন তাঁকে নিশানা করে হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, যেভাবে তাঁকে ঘিরে ধরে গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে, তাতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সরাসরি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, শুভেন্দু বাবু কি তবে তাঁর মৃতদেহ দেখতে চান?

ঠিক কী অভিযোগ কুণালের?

এদিন বেলেঘাটায় তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে হামলার চেষ্টার পর সরাসরি নারকেলডাঙা থানায় গিয়ে নিজের চরম আশঙ্কার কথা জানান কুণাল। তাঁর দাবি, গত তিন দিন ধরে লাগাতার তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে। হামলাকারীরা তাঁর গাড়ির কলার ধরে টানাটানি করে এবং গাড়ির ওপর চড়াও হয়। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “অভিযোগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়ে চারবার আক্রমণ হলো, তাও আবার পরপর তিন দিন—গতকাল, পরশু এবং আজ। ওরা কি আমার ডেডবডি দেখতে চায়?” দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার কায়দায় তাঁর ওপর এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে দাবি করে তিনি এর নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এমনকি এই ঘটনায় কয়েকজনের সুনির্দিষ্ট নামও তিনি থানায় জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি

কুণালের বক্তব্য, কলকাতার বুকে যেভাবে এই ঘটনা ঘটছে, তাতে স্পষ্টতই জঙ্গলরাজ চলছে। তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীদের সুরক্ষাও বিপন্ন বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, গত চার মাস ধরে তাঁর ওপর নিয়মিত হামলার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, তাঁর সঙ্গে থাকা কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তারক্ষী বাধ্য হয়ে রিভলবার বের করতে হয়। গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁকে বের করে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কুণালের আরও দাবি, কলকাতার রাস্তায় মুখ ঢাকা একাধিক বাইক বাহিনী তাঁকে পিছন থেকে অনুসরণ করছিল। ফুলবাগানের এক গলি এবং একটি হাসপাতালের কাছ থেকে তাঁকে তাড়া করা হয় এবং রিভলবার উঁচিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। গতকাল রাতেও বেলেঘাটা থানার ওসিকে তিনি সমস্ত বিষয়টি জানিয়ে রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন।

বিজেপির অস্বীকার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

গতবার উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপি নিজেদের যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। তার প্রেক্ষিতে কুণালের পালটা দাবি, তিনি তো খোদ বিজেপির মণ্ডল সভাপতির ছবিও প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তারপরেও তারা কীভাবে দায় এড়ায়? তবে বেলেঘাটার এই সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ।

এদিকে খাস কলকাতার বুকে শাসক দলের নেতার ওপর একের পর এক হামলার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ির সামনেও ওত পেতে বসেছিল বলে দাবি করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তিনি বাড়ি থেকে বেরোলেই তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলা হতে পারে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করে কুণাল জানিয়েছেন, তিনি জানেন না এটি তাঁর জীবনের শেষ বিবৃতি কি না। বর্তমানে পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।