“সাইকেল থেকে ট্যাব, স্কুলশিক্ষায় বড় বদল!”-মোবাইল ফোন নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনপ্রিয় ছাত্রকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র খোলনলচে পাল্টে গেল। এবার থেকে এই প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হলো ‘সারথি’। শুধু নাম বা লোগো বদলই নয়, সাইকেলের গুণগত মান এবং ডিজাইনেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন এই পর্বে পড়ুয়াদের আর নীল রঙের সাইকেল দেওয়া হবে না, পরিবর্তে দেওয়া হবে গেরুয়া-সাদা রঙের সাইকেল।
এদিনের কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরনো সবুজ সাথী প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে নতুন লোগোসহ ‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করা হলো। সাইকেলের গুণমান নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিন স্তরের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ফ্রেম এবং গার্ডের মান বাড়ানো হয়েছে।’ গ্রামীণ রাস্তা হোক কিংবা শহরের পিচঢালা পথ—সব ধরনের রাস্তার কথা মাথায় রেখেই সাইকেলের টায়ারের মান উন্নত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি, স্কুল ইউনিফর্ম ও পড়ুয়াদের গ্যাজেট ব্যবহার নিয়েও বড়সড় নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী দিনে স্কুলের পোশাকের রঙ এবং ব্র্যান্ড কী হবে, তা নির্দিষ্ট করবে স্কুলগুলিই। সরকার শুধু ইউনিফর্মের গুণগত মান বৃদ্ধির দিকে নজর দেবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ। ক্লাসে পঠনপাঠনের সময় পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে নিজের তীব্র আপত্তির কথা ফের স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ফলে পড়ুয়াদের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তাই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ট্যাব বা ডিভাইস সহায়তা প্রকল্পে পরিবর্তনের ভাবনা চলছে। টাকা দেওয়ার পরিবর্তে শুধুমাত্র পড়াশোনায় সহায়ক নির্দিষ্ট ডিজিটাল ডিভাইস বা ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে পঠনপাঠনকে আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল করতে এই ধরনের একাধিক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেই জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।