স্কুল থেকে ফিরে খেলতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! পুকুরের জলে তলিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যুতে স্তব্ধ গ্রাম

স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে বেরিয়েছিল তারা। কিন্তু কে জানত, এই সাধারণ খেলাধুলাই তাদের জীবনের শেষ দিন হয়ে দাঁড়াবে! ঝাড়খণ্ডের জামতারা জেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সদর থানা এলাকার চেগাইডিহ গ্রামের একটি পুকুরে ডুবে তিন নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে তিনটি শিশুর এমন আকস্মিক প্রয়াণে পুরো এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তিন শিশুর নাম আরিয়ান আনসারী (৫), সোহেল আনসারী (৬) এবং নাসির আনসারী (৬)। তারা প্রত্যেকেই চেগাইডিহ গ্রামের বাসিন্দা এবং একে অপরের ভালো বন্ধু ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর তারা খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। খেলতে খেলতে তারা গ্রাম থেকে অল্প দূরে অবস্থিত একটি পুকুরের কাছে চলে যায়।
প্রচণ্ড গরমের জেরে এরপর তারা ওই পুকুরে স্নান করতে নামে। কিন্তু জলের গভীরতা আন্দাজ করতে না পেরে হঠাৎই তাদের পা পিছলে যায় এবং তারা গভীর জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে। তিন শিশুকে একসঙ্গে জলে ডুবে যেতে দেখে আশেপাশের লোকজন চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা ও শোকস্তব্ধ পরিবার
ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুদের মরদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় মৃত শিশুদের পরিবারগুলিতে চলছে কান্নার রোল। পাড়ার আনন্দের কোলাহল মুহূর্তে পরিণত হয়েছে মহাশোকে।
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে জলের টানে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই পালামু জেলার চেইনপুর থানা এলাকার কোয়েল নদীতে করম উৎসবের প্রদীপ বিসর্জন দিতে গিয়ে একই রকমভাবে পাঁচ শিশুর জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নদী, পুকুর কিংবা বিভিন্ন জলাশয়ের আশেপাশে শিশুদের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।