সাংবাদিকদের জন্য বিরাট উপহার! অবসরকালীন পেনশন দ্বিগুণ থেকে পুজোতেও বড় ঘোষণা রাজ্যের

সাংবাদিক মহলে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের রিপোর্টার ও সংবাদকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং আর্থিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এদিন নবান্ন থেকে একগুচ্ছ বড় সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স ও ডিজিটাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত সংবাদকর্মীরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার আওতায় বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। যাঁরা নানা কারণে কেন্দ্রীয় ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারেননি, তাঁদের জন্য এই রাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা এক বিশাল স্বস্তি এনে দেবে।

সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এতদিন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা যে মাসিক ২৫০০ টাকা করে পেনশন পেতেন, তা বাড়িয়ে একলাফে ৫০০০ টাকা করা হলো। অর্থাৎ এখন থেকে রাজ্যের প্রবীণ সাংবাদিকরা দ্বিগুণ হারে পেনশন পাবেন। শুধু তাই নয়, পেনশন পাওয়ার নিয়মেও আনা হয়েছে বড় ও ঐতিহাসিক শিথিলতা। এতদিন শুধুমাত্র অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারীরাই এই সুবিধার আওতাভুক্ত ছিলেন, কিন্তু এবার থেকে ডেস্কে কর্মরত এবং অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না থাকা সাংবাদিকেরাও এই পেনশন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমে সাংবাদিকদের আর্থিক উৎসাহ দিতে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। কলকাতা এবং জেলার সমস্ত নিবন্ধিত সাংবাদিকরা এখন থেকে প্রতি বছর পুজোর সময় আবেদন করলেই ৩০০০ টাকা করে বিশেষ অনুদান বা উৎসব ভাতা পাবেন। এই ঘোষণায় রাজ্যজুড়ে কর্মরত সংবাদমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে খুশির হাওয়া দেখা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনাকে সবসময় স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এক বিশেষ বার্তায় বলেন যে, রাজ্যের স্বার্থে বা গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্রে সরকার সর্বদা পাশে আছে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে কাউকে একচুলও ছাড় দেওয়া যাবে না এবং এ বিষয়ে সকলকেই অত্যন্ত কঠোর মনোভাব বজায় রাখার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন তিনি।