সশরীরে হাজিরার নির্দেশ! প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিকের ওপর চটলেন সিবিআই আদালতের বিচারক

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের অস্বস্তিতে মানিক ভট্টাচার্য। চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম থাকায় শুক্রবার তাঁর সশরীরে আদালতে হাজিরা দিয়ে আত্মসমর্পণ করার কথা ছিল। কিন্তু এদিন মানিকবাবু নিজে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তীব্র ভর্ৎসনা করলেন সিবিআই আদালতের বিচারক অনুপম মাইতি।
কী ঘটেছিল আদালতে? এদিন মানিক ভট্টাচার্যের হয়ে আদালতে আইনজীবী উপস্থিত থাকলেও তিনি স্বয়ং হাজির ছিলেন না। যা ভালোভাবে নেয়নি আদালত। বিচারক স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযুক্তকে অবশ্যই সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি জট তৈরি হলো প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতির জন্য।
অন্যান্য অভিযুক্তদের কী হলো? মানিকবাবু গরহাজির থাকলেও, একই চার্জশিটে নাম থাকা অপর দুই অভিযুক্ত—বিভাস অধিকারী এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের আধিকারিক রত্না চক্রবর্তী বাগচী এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে তাঁরা জামিন পেয়েছেন। উল্লেখ্য, এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত কগনিজেন্স নিয়েছে এবং এবার দ্রুততার সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কেন এই কড়াকড়ি? প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির মতো একটি সংবেদনশীল ও বড় মাপের দুর্নীতি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চাইছে আদালত। তাই অভিযুক্তদের আত্মসমর্পণ থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি আইনি ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বিচারক। মানিক ভট্টাচার্যের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তের এদিনের অনুপস্থিতি তাই বিচারক ভালোভাবে নেননি।
বিচার প্রক্রিয়া এখন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে কোনো গড়িমসি বরদাস্ত করা হবে না—আদালতের আজকের আচরণে তা কার্যত পরিষ্কার। এখন দেখার, আদালতের পরবর্তী নির্দেশের পর মানিক ভট্টাচার্য আগামী শুনানিতে সশরীরে হাজির হন কি না।