শিবসেনা-এনসিপি স্টাইলে তৃণমূলের ভাঙন? প্রতীক ও নাম ফ্রিজ হওয়ার পথে, জানুন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরের মধ্যে ‘আসল তৃণমূল’ কে—তা নির্ধারণের ভার এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) হাতে। আগামী ৬ জুলাইয়ের মধ্যে দু’পক্ষকেই সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
নির্বাচন কমিশনের ৩টি ধাপ: কমিশন যে পদ্ধতিতে আসল রাজনৈতিক দল বেছে নেবে, তা হলো:
প্রথম ধাপ (ডকুমেন্টেশন): আগামী ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে দুই শিবিরকে সংগঠনের কর্তৃত্ব, নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষমতা এবং ‘অথারাইজড সিগনেটরি’ (Authorized Signatory) সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ নথি জমা দিতে হবে। কমিশনের কাছে এটিই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
দ্বিতীয় ধাপ (হিয়ারিং): নথি জমা পড়ার পর দুই পক্ষকে আলাদাভাবে শুনানিতে ডাকা হবে। প্রয়োজনে একাধিকবার এই হিয়ারিং চলবে, যেখানে দুই শিবিরের আইনজীবীরা নিজেদের সপক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ পেশ করবেন।
তৃতীয় ধাপ (চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত): যাবতীয় নথি ও দুই পক্ষের বয়ান পর্যালোচনা করে কমিশন ঘোষণা করবে, আইনত কারা তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তরাধিকারী।
ফ্রিজ হতে পারে জোড়াফুল প্রতীক? এই আইনি লড়াই চলাকালীন নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও দলের নাম সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ বা স্থগিত করে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষকেই সাময়িকভাবে ভিন্ন প্রতীক ও নাম নিয়ে কাজ চালাতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিবসেনা-এনসিপি থেকে তৃণমূলের লড়াই কেন আলাদা? জাতীয় রাজনীতিতে শিবসেনা ও এনসিপি ভাঙনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সঙ্গে তৃণমূলের এই পরিস্থিতিকে তুলনা করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের ক্ষেত্রে পার্থক্যটি হলো: ১. ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির মূলত পরিষদীয় দলের ওপর ভিত্তি করে আবেদন জানিয়েছে। ২. সাংগঠনিক কাঠামোর পাশাপাশি সাংসদ ও বিধায়কদের সমর্থন সংখ্যা (Numbers Game) এক্ষেত্রে আসল নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।
এরপর কী হতে পারে? নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরেও পুরো বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায় পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, অতীতে শিবসেনা ও এনসিপি ভাঙনের ক্ষেত্রেও শেষপর্যন্ত আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছিল মূল কাঠামোকে।
বর্তমানে গোটা পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দাবি, সাংগঠনিক ভিত তাদেরই দখলে। অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধরা কি শেষ পর্যন্ত কমিশনের লড়াইতে টিকে থাকতে পারবে? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলার রাজনীতি।