সর্বদল বৈঠকে এনসিপিআই-এর উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়! সুদীপের সামনেই চার কড়া প্রশ্ন মহুয়ার

বাদল অধিবেশন শুরুর আগে রবিবার দিল্লিতে কেন্দ্রের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হলো। এনসিপিআই (NCPI)-এর উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বৈঠক থেকে প্রতীকী ‘ওয়াক আউট’ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রসহ দলের অন্যান্য সাংসদরা। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মূলত বিদ্রোহী সাংসদদের বৈধতা নিয়ে কেন্দ্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করালেন মহুয়া।

এনসিপিআই-এর বৈধতা নিয়ে চার প্রশ্ন মহুয়ার: বৈঠক কক্ষে মহুয়া মৈত্র সরব হন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন নিয়ে। তাঁর প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

  • সাংবিধানিক সংকট: ৯১তম সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী, বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে আলাদা ‘ব্লক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে সরকার কোন যুক্তিতে তাদের আমন্ত্রণ জানাল?

  • অধ্যক্ষের অবস্থান: তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে বিচারাধীন। তাঁদের বৈধতা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

  • স্বীকৃতির অভাব: অধ্যক্ষ যেখানে এখনো বিদ্রোহীদের এনসিপিআই-তে যোগদানের আনুষ্ঠানিক মান্যতা দেননি, সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ কি সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী নয়?

তৃণমূল সাংসদদের এই প্রতিবাদের পর সাময়িকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও মহুয়াদের এই প্রতিবাদে পাশে দাঁড়ায়। যদিও কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিরোধীরা ফের বৈঠকে যোগ দেন।

সুদীপের প্রতিক্রিয়া: মহুয়া মৈত্রের এই চার প্রশ্নের মুখে পড়ে পরিস্থিতির কিছুটা মোকাবিলা করার চেষ্টা করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সুদীপ বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। অধ্যক্ষের কাছে আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এনসিপিআই-কে এভাবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকাটা বিভ্রান্তিকর।”

তবে মহুয়া মৈত্রের এই কঠোর অবস্থান যে সংসদের অন্দরে তৃণমূল বনাম এনসিপিআই সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আজকের ঘটনাপ্রবাহে।