সরকারি ডাক্তারদের আর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই! ডিউটিতে কড়াকড়ি, দেশজুড়ে চালু হলো ফেস বায়োমেট্রিক হাজিরা

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, ডিউটির সময়ে বাইরে চেম্বার করা বা বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে এবার নড়েচড়ে বসল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC)। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে আরও কড়াকড়ি করতে দেশজুড়ে চালু করা হলো অ্যাপ-নির্ভর ফেস বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা।
১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়মের ফলে পুরনো পদ্ধতিতে হাজিরা দেওয়া পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে গেল।
কীভাবে কাজ করবে নতুন ফেস বায়োমেট্রিক সিস্টেম?
জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন থেকে পাঠানো নির্দেশিকায় হাজিরা সংক্রান্ত বেশ কিছু কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে:
নির্দিষ্ট অ্যাপ: চিকিৎসকদের মোবাইলে নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা দিতে হবে।
১০০ মিটার সীমা: হাসপাতালে না এসে অ্যাপ অন করে হাজিরা দেওয়া যাবে না। যিনি যে হাসপাতালে কর্মরত, তার ১০০ মিটারের মধ্যেই অ্যাপটি কাজ করবে।
আধার কার্ডের তথ্য: অ্যাপে চিকিৎসকের আধার কার্ডের তথ্য থাকবে। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের সিস্টেমে দেওয়া হাসপাতালের লোকেশনের সঙ্গে চিকিৎসকের সেই মুহূর্তের লোকেশন মিলতে হবে।
মুখের মিল: সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের মুখের সঙ্গে আধার কার্ডে থাকা মুখের মিল হলেই তবে হাজিরা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে।
পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালগুলিতে এনএমসি-র তীব্র ক্ষোভ
গত জুন মাসেই পশ্চিমবঙ্গের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর ডাক্তারদের হাজিরা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC)।
ভর্ৎসনা: জুন মাসের এক অনলাইন বৈঠকে রাজ্যের ৮টি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের সামনে হাজিরার শোচনীয় অবস্থার জন্য এনএমসি কর্তারা প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করেছিলেন।
হাজিরা ৫০ শতাংশের নিচে: এনএমসি সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি কলেজে শিক্ষকদের উপস্থিতির হার ৫০ শতাংশেরও নীচে নেমে গিয়েছিল।
বেতন বন্ধের হুঁশিয়ারি: এই অবস্থা মেনে নেওয়া হবে না বলে কড়া অবস্থানের কথা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কমিশন। ৭৫ শতাংশের কম হাজিরা থাকলে বেতন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।
এবার সেই কড়া অবস্থানই কার্যকর করার পথে হাঁটল জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন। এই নতুন নিয়মের ফলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং রোগী পরিষেবা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।