সরকারি জলে কাটমানি! তৃণমূলের ‘দোকান’ বন্ধ করে বিনামূল্যে পানীয় জল চালু করল বিজেপি

তৃণমূল জমানায় সরকারি প্রকল্পের পানীয় জল নিয়েও চলত ব্যবসা! নদিয়ার শান্তিপুরের আড়বান্দি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ‘সজল ধারা’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি এই বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রকল্পটির ওপর কব্জা জমিয়ে রেখেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এক বালতি বা এক বোতল জলের জন্য সাধারণ মানুষকে দিতে হতো নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। দীর্ঘদিনের এই শোষণ থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে আসরে নামল বিজেপি।

বৃহস্পতিবার শান্তিপুরের আড়বান্দি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকার এই সজল ধারা প্রকল্পটি বিজেপি কর্মীরা তালা ভেঙে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেন। এখন থেকে আর কোনো টাকা দিতে হবে না, বিনামূল্যে জল সংগ্রহ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ—এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।

বিজেপি নেতা অভিজিৎ ঘোষের অভিযোগ, “তৃণমূল আমলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই সজল ধারা প্রকল্প তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল নেতারা একে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করত। প্রকল্পটিতে তালা ঝুলিয়ে ও টিন দিয়ে ঘিরে অবৈধভাবে জলের ব্যবসা চালানো হতো। বহুবার অভিযোগ করেও সুরাহা মেলেনি।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই সমস্ত সরকারি প্রকল্প ও জায়গা দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই এই প্রকল্পটিকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

আরেক বিজেপি নেতা সুজয় বিশ্বাসের সংযোজন, “সজল ধারার জলের ওপর তৃণমূল নেতাদের কাটমানির নজর ছিল। সরকারি জল বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভরতেন তাঁরা। ৪ মে সরকার বদলের পরই তৃণমূলের এই অবৈধ দখলদারি আমরা সরিয়ে দিয়েছি। টিন খুলে ফেলা হয়েছে, এখন মানুষ মনের আনন্দে বিশুদ্ধ পানীয় জল নিতে পারছেন।”

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় তৃণমূল নেতা কানাই দেবনাথের দাবি, “পুরোটাই বিজেপির সাজানো নাটক ও অপপ্রচার। তৃণমূল সরকার গোটা রাজ্যে সজল ধারা প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে জল পৌঁছে দিয়েছে। কোথাও টাকা নেওয়ার নজির নেই। বিজেপি সরকারে আসার পর তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি প্রকল্প ঘিরে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নদিয়ার রাজনীতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারি সম্পদ কার দখলে থাকবে বা তার সুফল কে ভোগ করবে, সেই লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত সাধারণ মানুষ এই জল পরিষেবা বিনামূল্যে পান কি না, সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy