সম্ভাজিনগরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, বাচ্চাদের সামনেই ফুটব্রিজ থেকে ফেলে খুন, ৯ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার ৩

মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরে পুরনো শত্রুতার জেরে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা। সবচেয়ে মর্মান্তিক হলো— এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো নিহত ব্যক্তির ১৩ বছর ও মাত্র তিন বছরের দুই সন্তান। খুনের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুষ্কৃতীরা ওই ব্যক্তিকে ফুটব্রিজ থেকে নিচে ফেলে পালিয়ে যায়।

নৃশংস হামলার বিবরণ
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি হলেন সইদ ইমরান শফিক। সেদিন তিনি বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন। রেলস্টেশনের কাছে যাওয়ার পথে আচমকা একটি গাড়ি এসে তাঁর অটোটিকে আটকায়।

মারাত্মক হামলা: পাঁচ-ছ’জন দুষ্কৃতী জোর করে শফিককে অটো থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। কিছু বলার আগেই এলোপাথাড়ি কোপানো শুরু হয়।

আক্রমণের তীব্রতা: প্রাণ বাঁচাতে শফিক অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। হামলাকারীরা তাঁর আঙুল কেটে দেয়, ডান হাতের কবজি চিরে দেয়। শুধু তাই নয়, মাথা ও গলায় একের পর এক কোপ বসানো হয়। শেষে ছুরি দিয়ে সারা শরীর কোপানো হয়।

ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাচ্চাদের উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায় এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

৯ ঘণ্টায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত ‘মুজিব ডন’
তদন্তে নেমে পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পারেন, একটি গ্যাস ব্যবসা নিয়ে পুরনো শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এই ঘটনার মাত্র ৯ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে:

মুজিব ডন (মূল অভিযুক্ত): যে একাধিক অপরাধমূলক মামলার সঙ্গে জড়িত।

সাদ্দাম হুসেন মইনুদ্দিন (মুজিবের ভাই)

শেখ ইরফান শেখ সুলেমান (ভগ্নিপতি)

বাচ্চাদের মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
চোখের সামনে বাবাকে এমন নৃশংসভাবে খুন হতে দেখে বর্তমানে দুই সন্তানের মানসিক অবস্থা শোচনীয়। তারা বারবার আতকে উঠছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করার চেষ্টা করা হবে। পুলিশ ধৃত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পরিবারের কোনও পূর্ব-যোগাযোগ ছিল কিনা, সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।