ইতিহাস গড়তে ভারতে আসছেন তালিবান বিদেশমন্ত্রী! কীসের বার্তা দেবে দিল্লি?

ভারতের কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। আফগানিস্তানের বর্তমান তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আগামী সপ্তাহেই ভারতে আসছেন। সূত্রের খবর, তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম সে দেশের কোনো মন্ত্রী সরকারি সফরে ভারতে আসছেন।
জানা গেছে, মুত্তাকির উপর থাকা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) বিধিনিষেধ সাময়িক ভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ তাঁকে ৯ থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ভারতে আসার জন্য বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। এর ফলেই তাঁর দিল্লি সফর চূড়ান্ত হয়েছে। মুত্তাকি আগামী ৯ বা ১০ অক্টোবর ভারতে পৌঁছতে পারেন।
যদিও ভারত এখনও তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও সাম্প্রতিককালে একাধিকবার মুত্তাকি এবং অন্যান্য তালিবান নেতাদের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক স্তরে বৈঠক হয়েছে। এর আগে দুবাইতে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রির সঙ্গে মুত্তাকির বৈঠক হয়েছিল, যেখানে স্বাস্থ্য এবং উদ্বাস্তু পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর মুত্তাকি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে টেলিফোনেও কথা বলেছিলেন, যা ছিল দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম কথোপকথন। সেই সময় তালিবান সরকার পহেলগামের জঙ্গি হামলার নিন্দা করায় জয়শঙ্কর তাদের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে জানান।
ভারত আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের পর মানবিক সহায়তা হিসেবে খাদ্য ও ওষুধ পাঠিয়েছে এবং উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সূত্রের খবর, এই সফরের মাধ্যমে কাবুল তাদের আফগান দূতাবাসে আরও বেশি কূটনীতিক নিয়োগ করার বিষয়ে আলোচনা করতে চাইছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান কাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করে মুত্তাকিকে সে দেশে আসার আমন্ত্রণ জানালেও, তালিবান সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। কিন্তু এবার তারা ভারতকে বেছে নেওয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় মোড় আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।