সম্পর্কের বরফ গলছে দ্রুত! ভাইফোঁটার দিনে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে শোভন চট্টোপাধ্যায়, সঙ্গে বৈশাখী

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান বরাবরই রাজ্যের রাজনীতি ও উৎসবের এক বিশেষ মিলনক্ষেত্র। বৃহস্পতিবার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে এই বছরের আয়োজনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ও সদ্য NKDA-এর চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত শোভন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

শোভনের উপস্থিতি, মমতার উষ্ণ অভ্যর্থনা
বৃহস্পতিবার দুপুরে শোভন চট্টোপাধ্যায় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হাজির হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ফোঁটা দেন তাঁকে। ফোঁটা দেওয়ার সময় দু’জনের মধ্যে হাস্যোজ্জ্বল আলাপচারিতা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দৃশ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদা তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা শোভন ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। যদিও গত বছর ভাইফোঁটার সময় তাঁর উপস্থিতি সম্পর্কের বরফ গলা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল।

রাজনীতি থেকে প্রশাসনে প্রত্যাবর্তন
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NKDA)-র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করে প্রশাসনে তাঁর প্রত্যাবর্তন সরকারিভাবে নিশ্চিত করেছেন। এই প্রশাসনিক আস্থার পরই ভাইফোঁটার দিনে কালীঘাটে তাঁর উপস্থিতি, রাজনৈতিক মহলে অন্য বার্তা দিচ্ছে।

তৃণমূল সূত্রের খবর: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ— দুইয়ে মিলে তাঁর তৃণমূলে পুনরাগমন এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা।

রাজনৈতিক কৌশল: দলের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরনো অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের ফের এক ছাতার নিচে আনতে চাইছেন। কলকাতার প্রশাসনের মুখ হিসেবে পরিচিত শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অভিজ্ঞতা তৃণমূলের শহরাঞ্চলে প্রভাব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

কালীঘাটের মঞ্চে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ফেরা যেন এক প্রতীকী বার্তা দিচ্ছে যে, “দূরত্ব যতই থাক, মমতা এখনও নিজের মানুষদের ভুলে যাননি।” তাঁর প্রশাসনিক প্রত্যাবর্তন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই উষ্ণ সম্পর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ভারসাম্য আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।