আরও বিপাকে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা! বাড়ি থেকে উদ্ধার স্ট্যাম্প পেপার ভুয়ো, চাঞ্চল্যকর দাবি সিআইডির

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার আইনি জটিলতা ও দুর্নীতির পাহাড় ক্রমশ আরও চওড়া হচ্ছে। জমি দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে সিআইডি (CID) যে সমস্ত নথি ও সামগ্রী উদ্ধার করেছিল, তার ফরেন্সিক ও বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সুজয়ের বাড়ি থেকে শুধু বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবুক কিংবা চেকবুকই নয়, সেই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছিল বেশ কিছু বিতর্কিত স্ট্যাম্প পেপার। আর সেই সমস্ত স্ট্যাম্প পেপারের সত্যতা যাচাই করতে যখন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়, তখন তা সম্পূর্ণ জাল বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এই বিস্ফোরক তথ্যের জেরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওই স্ট্যাম্পগুলির মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিএলএলআরও (BLLRO) এবং বিএলএল (BLL)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের বেশ কয়েকটি রাবার স্ট্যাম্প বা সিলমোহরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সরকারি স্ট্যাম্প ও সিল জালিয়াতির এই গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে আইনি খাঁড়া আরও শক্ত হতে চলেছে। জমি কেনাবেচা ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় এই ভুয়ো সিলমোহরগুলি ব্যবহার করে কীভাবে বিরাট প্রতারণা চক্র চালানো হতো, এখন সেই জট খুলতেই উঠেপড়ে লেগেছেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে, এই জমি দুর্নীতি মামলার গভীরে প্রবেশ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জমির দলিলে উল্লিখিত বিক্রেতাদের পরিচয় নিয়ে কাজ করতে গিয়ে চরম অসঙ্গতির মুখে পড়েছেন। সিআইডি সূত্রের জোরালো দাবি, দলিলে যাদের নাম ও পরিচয় বিক্রেতা হিসেবে দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি, স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও তাঁদের কোনো রকম খোঁজ মেলেনি বা তাঁদের অস্তিত্ব সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের জোরালো অনুমান, জমি কেলেঙ্কারির এই গোটা চক্রে প্রকৃত মালিকদের এড়িয়ে চলতে এবং সম্পত্তি জবরদখল বা অবৈধ হাতবদলের জন্য দলিলে পুরোপুরি কাল্পনিক নাম এবং জাল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে এই বহুমুখী জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় আগামী দিনে তাঁর আইনি বিপদের পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।