সমুদ্রে তেল দুর্ঘটনা রুখতে কড়া রাজ্য! দূষণ ঠেকাতে বিশেষ কমিটি গঠন, কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

বঙ্গোপসাগর ও রাজ্যের বিভিন্ন নদীতে দূষণ রুখতে রাজ্য সরকার এবার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি সমুদ্রে বা নদীতে জাহাজ উল্টে গিয়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার মতো দুর্ঘটনা ঠেকাতে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ‘অয়েল স্পিল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্নে গঠিত হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটি।
রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এই কমিটির প্রধান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, মৎস্য, সেচ ও জলপথ, পরিবেশ, পরিবহণ, শ্রম এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিবরা। এছাড়াও ভারতীয় কোস্ট গার্ড এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির আধিকারিকরাও এই কমিটির সদস্য।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, কমিটির প্রথম বৈঠকেই তেল দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক মাসে বাংলার উপকূলে বেশ কয়েকটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা জল, সামুদ্রিক প্রাণী এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকার জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বঙ্গোপসাগর এবং রাজ্যের নদীগুলি আমাদের সম্পদ। এগুলি দূষণমুক্ত রাখা কেবল পরিবেশের জন্য নয়, রাজ্যের অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ অবৈধ বালি উত্তোলন নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নদীর তলদেশ থেকে লাগাতার বালি তোলার কারণে বহু সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তিনি জেলার জেলাশাসকদের অবিলম্বে এই বালি চুরি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “মুখ্যসচিবের নির্দেশ অনুযায়ী, অবৈধভাবে বালি তোলার কারণে পরিবেশের পাশাপাশি সেতুর স্থায়িত্বও নষ্ট হচ্ছে। যেকোনো সময় সেতু ভেঙে পড়তে পারে। এই সমস্যা রুখতে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।”
পরিবেশ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন তেল দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, তেমনি নদী ও সমুদ্রের জলের মানও বজায় থাকবে। এর ফলে মৎস্যসম্পদ সুরক্ষিত হবে এবং উপকূলীয় অর্থনীতিও স্থিতিশীল হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপগুলি সফল হলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এবং নদী ব্যবস্থাপনা এক নতুন মাত্রা পাবে।