‘সব সীমা পার করেছে তৃণমূল’, রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে বাংলাজুড়ে তোলপাড়! কী এমন ঘটল উত্তরবঙ্গে?

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জাতীয় রাজনীতি। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান ঘিরে প্রোটোকল লঙ্ঘন এবং অসহযোগিতার অভিযোগে তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে, ধর্মতলার মঞ্চ থেকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে রাজনীতি করানো হচ্ছে।”

মোদীর আক্রমণ: ‘সংবিধানের অপমান’

রবিবার দিল্লির মেট্রো করিডরের উদ্বোধন সেরে সরাসরি বাংলার শাসকদলকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলায় নোংরা রাজনীতি করছে তৃণমূল। দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানো তো দূর, তাঁর অনুষ্ঠান বয়কট করেছে শাসকদল। এটা শুধু ব্যক্তির অপমান নয়, ভারতীয় সংবিধানের অপমান।” মোদীর দাবি, তৃণমূলের এই ‘অহংকার’ এবং ঔদ্ধত্যই তাদের পতনের কারণ হবে।

মমতার পালটা: ‘বিজেপির পলিসির ফাঁদ’

প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের আয়োজকরা রাজ্য প্রশাসনকে কিছুই জানায়নি। মমতা বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ক্ষমা করবেন ম্যাডাম, আপনি বিজেপির পলিসির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন। আপনাকে দিয়ে রাজনীতি করানো হচ্ছে।” অনুষ্ঠানের জায়গা বদল নিয়ে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠানটি এয়ারপোর্ট অথরিটির জমিতে হয়েছিল, যার দায় রাজ্য প্রশাসনের নয়।

রাষ্ট্রপতির আক্ষেপ ও সংঘাতের সূত্রপাত

শনিবার উত্তরবঙ্গে ‘ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কনফারেন্স’-এ যোগ দিতে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিজেই উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম এলেন না, আমি দুঃখ পেয়েছি। হয়তো আমার ওপর রাগ করেছেন।” এরপরই সরব হয় বিজেপি। শাহী পাঁজাও পালটা তোপ দেগে রামমন্দির উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি এবং পিআইবি-র একটি ছবি প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর ‘দম্ভ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy