টলিউড থেকে রাজনীতির ময়দান—সর্বত্রই দেব এক জনপ্রিয় নাম। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক মহলে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। বিশেষ করে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পালাবদলের আবহাওয়ায় দেব কি ‘নতুন তৃণমূল’-এর পথে পা বাড়াচ্ছেন? এই প্রশ্ন যখন রাজ্যজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই সরাসরি সমস্ত গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন ঘাটালের সাংসদ।
“দিদির সঙ্গেই আছি”: দেব একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই অবিচল। দলের অন্দরের অস্থিরতা বা নতুন কোনো সমীকরণ নিয়ে যখন নানা কথা শোনা যাচ্ছে, তখন দেবের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমি দিদির সঙ্গেই আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে যে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি তা নিষ্ঠার সাথে পালন করতে চাই।”
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে গিয়েও দেব বরাবরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, “রাজ্যের মানুষের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের জীবনে যে পরিবর্তন এনেছে, তা অনস্বীকার্য।” দলের কোনো পরিবর্তন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে না জড়িয়ে বরং গঠনমূলক কাজের ওপর তিনি যে বেশি জোর দিচ্ছেন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
নতুন তৃণমূলে নাম লেখানো নিয়ে কী বললেন? সম্প্রতি ‘নতুন তৃণমূল’ বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন ধারার রাজনীতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো নিয়ে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দেব। তিনি জানান, দলে নতুন বা পুরনো বলে কিছু নেই। তৃণমূল একটিই দল এবং তিনি সেই দলের একজন অনুগত সৈনিক হিসেবেই থাকতে পছন্দ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দেবের এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধীদের জল্পনাকেও প্রশমিত করবে। বিশেষ করে যখন অনেক তারকা সাংসদ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বা দল পরিবর্তন করছেন, তখন দেবের এই ‘মমতা-বন্দনা’ তৃণমূলের কাছে বেশ স্বস্তির।
নিজের কাজে ফেরা এবং মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করে দেব আবারও প্রমাণ করলেন যে, বিতর্ক তাঁকে স্পর্শ করলেও দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য অটুট।





