ধর্মতলায় সাংবাদিক ও পুলিশের উপর হামলা কাণ্ডে বিরাট মোড়! গভীর রাতে লালবাজারের জালে আরও দুই অভিযুক্ত

ছাত্র আন্দোলনের সময় কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে সাংবাদিক ও পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে আরও বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই মামলায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের তদন্তকারী অফিসাররা। এর আগেও এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নতুন করে দুই অভিযুক্তের গ্রেফতারির ফলে এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া এখন আরও বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতের এই অভিযানে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজনের নাম ওয়াকার আজম (৩৫)। তাঁর মূল বাসস্থান কলকাতার কড়েয়া থানার অন্তর্গত ব্রাইট স্ট্রিট এলাকায়। অপর ধৃত ব্যক্তির নাম মহম্মদ জাভেদ আখতার (৩২), যাঁর বাড়ি নাদিয়াল থানার অন্তর্গত ড. আবদুল কবীর রোড এলাকায়। এই জোড়া গ্রেফতারি প্রসঙ্গে কলকাতার অতিরিক্ত নগরপাল (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চলছে এবং সমস্ত অভিযুক্তদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের জোরালো দাবি, ধর্মতলায় ছাত্র বিক্ষোভ ও জমায়েতের সুযোগ নিয়ে ভাঙচুর চালানো, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে জনঅশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় ধৃত ওই দুই ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ভূমিকার প্রাথমিক প্রমাণ ইতিমধ্যে হাতে এসেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করার পরই লালবাজারের পক্ষ থেকে এই গ্রেফতারির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে আরও বিশেষ সূত্রে খবর মিলেছে যে, এই হিংসাত্মক ঘটনার নেপথ্যে থাকা এবং সরাসরি জড়িত আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সঠিক পরিচয় ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের খোঁজে বর্তমানে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন টিম জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে। বিক্ষোভের আড়ালে যাঁরা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে সাফ জানিয়েছে পুলিশ। শুধু সরাসরি ভাঙচুরে অংশ নেওয়া দুষ্কৃতীরাই নন, বরং পর্দার আড়ালে থাকা উস্কানিদাতা এবং ষড়যন্ত্রকারীদের ভূমিকাও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদের ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছিল খোদ কলকাতায়। গত শুক্রবার ধর্মতলায় সেই ছাত্র আন্দোলনের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু বহিরাগত দুষ্কৃতী সুচতুরভাবে মিশে যায় এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হিংসার ঘটনার পরেই ককরোচ জনতা পার্টির তরফ থেকেও কলকাতা পুলিশকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, এই তাণ্ডবের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের কারও সঙ্গেই সিজেপি-র বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। পুলিশও প্রাথমিক তদন্তের পর নিশ্চিত করেছে যে ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ ছাত্র নন।
ধর্মতলা চত্বরে ধারাবাহিক ভাঙচুর, নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা এবং আইনশৃঙ্খলা ভাঙার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইতিমধ্যেই একাধিক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে লালবাজার। সেই মামলাগুলির সুনির্দিষ্ট তদন্তেই লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। শনিবার তিনজনকে গ্রেফতার করার পর রবিবার গভীর রাতের এই জোড়া গ্রেফতারির ফলে সামগ্রিক মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। লালবাজারের তদন্তকারীদের স্পষ্ট দাবি, আগামী দিনে এই হিংসাত্মক ঘটনার জট আরও খুলবে এবং আরও অনেকে পুলিশের জালে আসবে।