দীর্ঘ টালবাহানা ও লাগাতার অভিযোগের পর অবশেষে গ্রেফতার হলেন টলিপাড়ার দাপুটে ব্যক্তিত্ব ও ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার রাতে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। একজন মেকআপ আর্টিস্টের করা শ্লীলতাহানি, অশালীন আচরণ, মারধর এবং তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁকে লালবাজারের সেন্ট্রাল লক-আপে রাখা হয়েছে এবং শুক্রবারই তাঁকে আদালতে তোলা হবে।
কেন এই গ্রেফতারি? রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ তৈরির অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ, যাঁরা তাঁর কথামতো চলতেন না বা তাঁর “পদলেহন” করতেন না, তাঁদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া হতো। স্টুডিওপাড়ায় ব্যান কালচার, অনৈতিকভাবে টাকা দাবি, এবং প্রযোজকদের হেনস্থা করার মতো অভিযোগ বারবার উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিস্ফোরক অপরাজিতা আঢ্য স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির খবরে টলিপাড়ায় যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে। অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে একটা ভয়ের রাজ্য তৈরি হয়েছিল। নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভেবে তিনি কলাকুশলীদের পায়ের তলায় রাখার চেষ্টা করতেন। যারা তাঁর নির্দেশ অমান্য করত, তাদের ব্যান করে দেওয়া হতো। তাঁর জন্যই অনেক প্রযোজক ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।”
অপরাজিতা আরও যোগ করেন, “অনেকের ক্যারিয়ার তিনি নষ্ট করেছেন। ওঁর যারা চাটুকার ছিল, তারাই ছিল তাঁর শক্তির উৎস। আজ যা ঘটেছে, তা ওঁর প্রাপ্য ছিল। এটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।”
টলিপাড়ার দীর্ঘস্থায়ী সংকট গত কয়েক বছর ধরে ফেডারেশন বনাম প্রযোজকদের দ্বন্দ্ব, টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতা এবং কাজ নিয়ে অনিয়ম—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল স্বরূপ বিশ্বাসের নাম। ছবির মুক্তি আটকে দেওয়া থেকে শুরু করে কলাকুশলীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এই ঘটনার পর টলিপাড়ায় ক্ষমতার সমীকরণ বড়সড় বদল আনবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন আদালতের নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা টলিউড। আইনের এই পদক্ষেপে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিনের ‘দাদাগিরি’ কি সত্যিই শেষ হবে? সেদিকেই এখন নজর সবার।





