সপ্তাহের শুরুতেই চরম দুর্ভোগ! কলকাতায় ১২ ঘণ্টার অ্যাপ ক্যাব ও ট্যাক্সি ধর্মঘটে লণ্ডভণ্ড জনজীবন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে কলকাতার সাধারণ মানুষকে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে ১২ ঘণ্টার অ্যাপ ক্যাব ও ট্যাক্সি ধর্মঘট। সিটু (CITU)-র ডাকে আয়োজিত এই আকস্মিক ধর্মঘটে সমর্থন জানিয়েছে একাধিক বাইক ও ট্যাক্সি সংগঠনও। এর ফলে সকাল থেকেই শহরের রাজপথে কার্যত উধাও হয়ে গেছে অ্যাপ নির্ভর ক্যাব, বাইক এবং হলুদ ট্যাক্সি। নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপে বুকিং করেও গাড়ি না পাওয়ায় নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

জানা গিয়েছে, সিটুর পক্ষ থেকে মোট ১১ দফা দাবিতে এই ঘেরাও ও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় মৌলালির রামলীলা ময়দানে অ্যাপ ক্যাবচালকরা এক বিশাল জমায়েতে অংশ নেন এবং সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সরাসরি রাজ্য পরিবহন দফতরে স্মারকলিপি জমা দিতে যান। চালকদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—পেট্রোপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে ক্যাবের ভাড়ার পুনর্গঠন বা রি-স্ট্রাকচারিং করতে হবে, অবৈধভাবে প্রাইভেট বাইক ও চারচাকা গাড়ি ভাড়া খাটানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, এবং কলকাতায় জ্বালানি সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা ও পেট্রোল পাম্পের দালালির সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলতে হবে। পাশাপাশি, বিনা কারণে চালকদের ব্লক করা আইডি খুলে দেওয়া, পুলিশি হয়রানি ও জুলুমবাজি বন্ধ করা, ভিএলটিডি (VLTD) সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা, এবং এসি ক্যাবে নন-এসি ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার দাবিও তোলা হয়েছে। এছাড়া মহিলা চালকদের সুরক্ষার খাতিরে শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও রেস্তোরাঁয় শৌচাগার ব্যবহারের সুব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে।

এদিকে ধর্মঘটের জেরে সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই আগে থেকে ধর্মঘটের খবর না জানায় বিমানবন্দরে নেমেই দীর্ঘ এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে ক্যাবের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। তার ওপর সোমবার সকাল থেকেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বৃষ্টির জেরে সেই কষ্ট বহুগুণ বেড়ে গেছে। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। যদিও এই অচলাবস্থার মধ্যেও শহরে অ্যাপ নির্ভর বাস ও শাটল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, তবুও সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে।