সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের হাতের জাদু! কাগজ দিয়ে তৈরি পাঁচ ফুটের দুর্গা মূর্তি তাক লাগাল শান্তিপুরকে!

মৃৎশিল্পীদের তৈরি প্রতিমার ভিড়ে এক অন্য ধরনের দুর্গা মূর্তি তৈরি করে সবার নজর কেড়েছে শান্তিপুরের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অরিজিৎ সাহা। কাগজ, শোলা, কার্ডবোর্ড ও আর্ট পেপার দিয়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার এই অপূর্ব মূর্তিটি তৈরি করেছে সে। তার এই অনন্য শিল্পকর্ম দেখে শান্তিপুরের মানুষ মুগ্ধ।
ছোটবেলা থেকেই অরিজিতের মনে মৃৎশিল্পীদের কাজ দেখে এক কৌতূহল জাগে, “আমি কি নিজে কিছু সহজ ও হালকা জিনিস দিয়ে মূর্তি বানাতে পারি না?” এই ভাবনা থেকেই শুরু হয় তার পথচলা। ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময় প্রথম কাগজ আর পেনসিল দিয়ে দেবীর অবয়ব আঁকা শুরু করেছিল সে। এখন সে একজন দক্ষ কাগজশিল্পী। এক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ এই মূর্তিটি বানিয়েছে অরিজিৎ।
পরিবেশবান্ধব ও অনন্য সৃষ্টি
অরিজিতের তৈরি এই মূর্তিটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। কাঠের কাঠামোর পরিবর্তে সে শোলা ও বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করেছে। মূর্তিটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই হালকা। মূর্তি তৈরির সব উপকরণ সে নিজেই সংগ্রহ করে, এমনকি যা শান্তিপুরে পাওয়া যায় না, তা সে কৃষ্ণনগর থেকে কিনে আনে।
অরিজিতের কথায়, “মায়ের মূর্তি নিজে বানানো, নিজে সাজানো আর নিজে পুজো করার আনন্দই আলাদা।” মূর্তি বানানো থেকে অলংকার ও সাজসজ্জা—সবকিছুতেই সে তার সৃজনশীলতার ছাপ রেখেছে। এই বছর সে কলকাতার খান্না থেকে কাতান বেনারসি কিনে এনেছে মাকে সাজানোর জন্য।
পরিবারের সমর্থন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
অরিজিতের মা মৌসুমী সাহা বলেন, “আমরা ওঁকে কোনো কিছুতে বাধা দিইনি। ও পাঁচ দিনই পুজো করবে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম ও কাগজ দিয়ে জিনিসপত্র বানাতে খুব ভালোবাসে।” তিনি আরও জানান, এই বছর তুলনামূলক বড় মূর্তি বানানোর ইচ্ছে ছিল অরিজিতের, যা দেখে তার পরিবার খুবই আনন্দিত। প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় অরিজিৎ নিজের হাতে ঠাকুর বানিয়ে ঘরের মধ্যেই পুজো করে।
অরিজিৎ জানায়, ভবিষ্যতে এই শিল্পকেই সে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। তার স্বপ্ন, একটি নামি আর্ট কলেজে পড়াশোনা করে নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলা। পুজোর পর একটি ছোট্ট ভ্যানে করে প্রতিমাটি বিসর্জন দেওয়া হয়। এই খুদে শিল্পীর শিল্পনৈপুণ্য ও নিষ্ঠা প্রমাণ করে যে, প্রতিভা বয়সের ওপর নির্ভর করে না, শুধু দরকার সঠিক অনুপ্রেরণা ও ভালবাসা।