সদনে তুমুল হট্টগোল, জেলের ভিতর থেকে সরকার চালানো বন্ধে নতুন বিল পেশ অমিত শাহের

বুধবার লোকসভায় ব্যাপক বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তিনটি সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পেশ করলেন। এই বিলের প্রধান প্রস্তাব হলো, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের মন্ত্রী গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যদি টানা ৩০ দিন কারাগারে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তাঁকে পদচ্যুত করা হবে।

বিল পেশের সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা তীব্র আপত্তি ও হট্টগোল শুরু করে। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি অভিযোগ করেন যে, এটি বিরোধী রাজ্যগুলির সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটি চক্রান্ত। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেফতার করানো হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই বিলকে কেন্দ্রের ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এটি বিচারব্যবস্থা ও ফেডারেল কাঠামোকে এড়িয়ে সরকার ফেলার একটি হাতিয়ার। এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিও এই বিলের বিরোধিতা করে বলেন যে, এটি গণতন্ত্রের মূল নীতির লঙ্ঘন।

সংসদের মধ্যে বিরোধী সাংসদরা অমিত শাহের দিকে কাগজ ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন, যার জেরে একাধিকবার অধিবেশন স্থগিত করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “মোদী সরকারের অঙ্গীকার হলো রাজনীতিতে নৈতিক মানদণ্ড পুনঃস্থাপন করা। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে যে, জেলের ভিতর থেকেও কিছু নেতা ক্ষমতায় টিকে যাচ্ছেন।” তার মতে, সংবিধান প্রণেতারা কখনোই এমন পরিস্থিতি কল্পনা করেননি।

বিল অনুযায়ী, অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধি ৩০ দিনের মধ্যে জামিন না পেলে, প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। তা না হলে আইন অনুযায়ী তার পদে থাকার যোগ্যতা চলে যাবে। তবে, আইন মেনে জামিন পেলে এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেলে তিনি পুনরায় পদে ফিরতে পারবেন। এই বিল দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।