সকালে হুঙ্কার, দুপুরে চুরমার! বিজেপিকে মোছার ডাক দিয়ে খোদ নিজের দলই হারালেন কেজরীওয়াল?

রাজনীতির ময়দানে দাবার চাল যে কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ তৈরি হলো আজ। দিনটি শুরু হয়েছিল অরবিন্দ কেজরীওয়ালের হুঙ্কার দিয়ে। গুজরাট থেকে দিল্লি—সব জায়গায় বিজেপিকে ‘সাফ’ করে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন আপ সুপ্রিমো। কিন্তু সূর্য মাথার ওপর আসতেই সেই দাপট কার্যত ধুলোয় মিশে গেল। সকালে যারা বিজেপিকে মুছে দিতে চেয়েছিলেন, দুপুরে দেখা গেল তাঁদের নিজেদের ঘরই সাফ হয়ে গিয়েছে!

সকালে কী হয়েছিল? আজ সকালে এক জনসভা থেকে অরবিন্দ কেজরীওয়াল দাবি করেছিলেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপিকে হারের স্বাদ পেতে হবে। গুজরাট এবং দিল্লিতে আম আদমি পার্টির বাড়বাড়ন্ত দেখে বিজেপি ভয় পেয়েছে বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। আপ সমর্থকদের মধ্যে তখন টানটান উত্তেজনা, মনে হচ্ছিল বিজেপিকে টেক্কা দিতে আপ-ই এখন বিরোধী শিবিরের একমাত্র মুখ।

দুপুর হতেই ‘মহা-বিপর্যয়’: সকালের সেই উচ্ছ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই খবর আসে, দলের সাতজন হেভিওয়েট রাজ্যসভা সাংসদ—যাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাঘব চড্ডা, হরভজন সিং এবং স্বাতী মালিওয়ালের মতো মুখ—একযোগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

  • সাংসদ সংখ্যা হ্রাস: রাজ্যসভায় আপ-এর শক্তি ১০ থেকে এক ধাক্কায় ৩-এ নেমে এল।

  • বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক: যে বিজেপিকে মুছে ফেলার কথা বলা হয়েছিল, সেই বিজেপিই আপ-এর মূল শক্তিস্তম্ভগুলি উপড়ে নিল।

বিপর্যয়ের মূলে কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সকালে কেজরীওয়ালের আক্রমণাত্মক মেজাজ ছিল আসলে দলের ভেতরে ঘনিয়ে ওঠা বিদ্রোহ চাপা দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা। কিন্তু রাঘব চড্ডার নেতৃত্বে সেই বিদ্রোহ প্রকাশ্যে আসতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আপ-এর রণকৌশল।

উপসংহার: সকালের ‘আক্রমণকারী’ দল দুপুরে ‘আক্রান্ত’ এবং ‘অসহায়’ হয়ে পড়ার এই ঘটনা ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে বিরল। একদিকে বিজেপিকে হারানোর দাবি, অন্যদিকে নিজের ঘর সামলাতে না পারা—কেজরীওয়ালের জন্য এই ধাক্কা সামলানো এখন পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy