তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিআইডি দফতরে হাজিরা ঘিরে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। টানা কয়েকবার তলব এড়িয়ে যাওয়ার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডি সদর দফতরে হাজিরা দেন তিনি। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত রেজোলিউশনের কপিতে বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে চলে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তের স্বার্থে সিআইডি আধিকারিকরা তাঁকে দফায় দফায় জেরা করেন, যার মধ্যে একবার চায়ের বিরতিও ছিল।
সূত্রের খবর, জেরার শুরু থেকেই তদন্তকারীদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অভিষেককে। মূল অভিযোগ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় যে রেজোলিউশনের কপি জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে একাধিক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। তদন্তকারী অফিসাররা যখন তাঁকে ওই রেজোলিউশনের কপি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন অভিষেক বারবার ‘জানি না’ বলে উত্তর দেন। তদন্তকারীরা তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ নথির দায় তিনি কিছুতেই এড়াতে পারেন না। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদের মেজাজ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীকে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হলে অভিষেক রীতিমতো মেজাজ হারান। আধিকারিকদের অভিযোগ, বারবার ‘জানি না’ বা ‘বলব না’ জাতীয় উত্তর দিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর উত্তরে আধিকারিকরা মোটেই সন্তুষ্ট নন। এই জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই তাঁকে আগামী ১৪ জুন ফের তলব করা হয়েছে বলে সিআইডি সূত্রে জানানো হয়েছে।
এদিকে, সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সোজা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছান অভিষেক। রাত সাড়ে ১১টার পর সেখানে শুরু হয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্র। রাত ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ বৈঠক শেষে কুণাল ঘোষ বেরিয়ে এলেও অভিষেক সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি। অনুগামীরা ছাতা দিয়ে তাঁকে আড়াল করে গাড়িতে তুলে দেন। এ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ, এর বেশি কোনো মন্তব্য তিনি করবেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জেরা পর্বের প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





